বাংলা হান্ট ডেস্ক : দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলকে (Dilip Mandal) ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে তাঁর বিতর্কিত মন্তব্য, অন্যদিকে তাঁর বিলাসবহুল বাড়ি ও সম্পত্তির পরিমাণ নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। পৈলানের সেই প্রাসাদসম বাড়িতে পুলিশের তল্লাশির পর থেকেই বিষয়টি আরও বেশি করে সামনে এসেছে।
তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মন্ডলের (Dilip Mandal) সম্পত্তি
পৈলানে অবস্থিত দিলীপ মণ্ডলের বিলাসবহুল বাড়ি দেখে কার্যত চমকে গিয়েছেন অনেকেই। বিশাল লন, সুইমিং পুল, দোলনা থেকে শুরু করে বাগানে হরিণ ও বাঘের মূর্তি-কী নেই সেই বাড়িতে। বাড়ির ভিতরে একাধিক দামি গাড়িও দেখা গিয়েছে।
হলফনামা অনুযায়ী, ২০১১ সালে দিলীপ মণ্ডলের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৭ লক্ষ টাকা। ২০১৬ সালে সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি টাকা। এরপর ২০২১ সালে তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ হয় প্রায় ১ কোটি ৫৯ লক্ষ টাকা। আর ২০২৬ সালে জমা দেওয়া হলফনামা অনুসারে তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ পৌঁছে গিয়েছে ৩ কোটি ২৮ লক্ষ টাকায়। বিধায়কের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তাঁর মোট আয় ছিল প্রায় ৭ লক্ষ ৩১ হাজার টাকা।হলফনামা অনুযায়ী, চাষের জমি ও বাসজমি মিলিয়ে তাঁর স্থাবর সম্পত্তির মূল্য প্রায় ২ কোটি ১২ লক্ষ টাকা।
রিপোর্ট অনুযায়ী, বিষ্ণুপুরের এই তৃণমূল বিধায়কের দুটি বাড়ি রয়েছে। পৈলানের বাড়িটি নিয়ে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা হলেও, ফলতার উত্তর চালুয়ারি গ্রামেও রয়েছে তাঁর আরও একটি বাড়ি। জানা গিয়েছে, ওই এলাকাতেই তাঁর পৈতৃক ভিটে। কয়েক বছর আগেও সেখানে ছিল মাটির বাড়ি। বর্তমানে সেই জায়গাতেই তৈরি হয়েছে বড় বাংলো।
যদিও এই বাড়ি নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে দিলীপ মণ্ডলের ছেলে দাবি করেছেন, পৈলানের বাড়িটির মালিক কেবল তাঁর বাবা নন। পরিবারের অন্য সদস্য তথা কাকাদেরও ওই সম্পত্তিতে অংশ রয়েছে। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন দিলীপ মণ্ডল। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় দুটি এফআইআর দায়ের হয়েছে।
প্রসঙ্গত, যে ভাইরাল ভিডিও ঘিরে এত বিতর্কের সূত্রপাত, সেখানে দিলীপ মণ্ডলকে বলতে শোনা যায়, “অনেক সংযম দেখিয়েছি। ১৫ বছর শান্তিতে রেখেছিলাম। আর হবে না। পুলিশকে ভয় পাই না। অর্জুন সিং, তাপস রায়কে জিজ্ঞেস করে নিক, দিলীপ মণ্ডল কে?” এই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে ওঠে।

আরও পড়ুন : নুন আনতে পান্তা ফুরোয়, তবু থামেনি স্বপ্ন! উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্টে তাক লাগল টোটো চালকের মেয়ে সুমি
এই মামলার তদন্তেই এবার সামনে এসেছে বিধায়কের বিলাসবহুল জীবনযাপন ও বিপুল সম্পত্তির বিষয়টি। এরপরই তাঁকে গ্রেফতার করতে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার বিশাল বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা তাঁর বাড়িতে পৌঁছায়। জানা গিয়েছে, পৈলান ও ফলতার দুটি বাড়িতেই একসঙ্গে অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে পুলিশের দাবি, তল্লাশির সময় বাড়িতে তাঁকে পাওয়া যায়নি।













