ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সেনাপ্রধানেরও মৃত্যু! প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিলেন বিদেশমন্ত্রী

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ক্রমশ চরম আকার নিচ্ছে ইরান-ইজরায়েল সংঘাত (Iran-Israel War)।  নজিরবিহীন বিমান হামলায় এক দিনে ইরানে ১২০০টির বেশি বোমা ফেলা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইজ়রায়েলের বায়ুসেনা। রবিবার সকালে বিবৃতি প্রকাশ করে ইরান জানায়, আমেরিকার সহায়তায় শনিবার ব্যাপক আক্রমণ চালানো হয় এবং সেই হামলার মূল নিশানাই ছিল ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব। এই অভিযানের জেরে দেশজুড়ে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তেহরান অবশেষে স্বীকার করেছে, খামেনেইয়ের পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজ়িজ় নাসিরজ়াদেহ্ ও সেনাপ্রধান আব্দুল রহিম মৌসাভিও নিহত হয়েছেন।

ইরান-ইজরায়েল সংঘাতে (Iran-Israel War) নিহত দেশের শীর্ষ নেতৃত্বরা

ইজ়রায়েলের দাবি, এই হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দুর্বল করা। দক্ষিণ ইরানের হরমোজ়গান প্রদেশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। সেখানে অন্তত ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। মিনাব শহরের একটি মেয়েদের স্কুলেও বোমা পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হামলার তীব্র নিন্দা করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “এত মৃত্যু বৃথা যাবে না, এর প্রতিশোধ নেওয়া হবে।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, তেহরান পাল্টা আঘাতের পথেই হাঁটতে চলেছে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যের যে ৯ টি দেশে যুদ্ধের প্রভাব, সেখানে রয়েছেন কত ভারতীয়? জানলে অবাক হবেন

শনিবার রাতেই ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রথম দাবি করেন, অভিযানে খামেনেই নিহত হয়েছেন। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একই দাবি জানান। যদিও প্রথমে ইরান সরকার তা অস্বীকার করে, তবে পরে রবিবার সকালে একে একে শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। খামেনেইয়ের মৃত্যুতে দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই তার মৃত্যুতে তেহরানের রাস্তায় শোকাহত মানুষের ঢল নেমেছে। প্রতিবেশী ইরাকও তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।

ইরানের সরকারি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, শনিবার সকালেই যৌথ বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় খামেনেই নিহত হন। তিনি তখন নিজের কার্যালয়ে কাজ করছিলেন। ওই হামলায় তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ইজ়রায়েলি হামলায় সংশ্লিষ্ট এলাকা সম্পূর্ণ ধ্বংস স্তুপে পরিণত হয়। এর পরেই ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড কঠোর পাল্টা হামলার কথা ঘোষণা করে এবং পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত একাধিক মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালাতে থাকে ইরান।

Top leaders of the country killed in the Iran-Israel War
বাঁদিকে ইরানের সেনাপ্রধান আব্দুল রহিম মৌসাভি এবং ডান দিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজ়াদা

আরও পড়ুন:ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে লাফিয়ে বাড়বে অপরিশোধিত তেলের দাম! ভারতের ব্যাকআপ প্ল্যান কী?

সংঘাতের আবহে আন্তর্জাতিক উদ্বেগও বাড়ছে। চিন ইতিমধ্যেই তিন পক্ষকেই সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত হওয়ার কোনও ইঙ্গিত এখনও নেই বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একে অপরের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি ও সামরিক পদক্ষেপে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের মেঘ আরও ঘন হচ্ছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতার উপর গভীর ছাপ ফেলতে পারে।