বাংলা হান্ট ডেস্ক: আমেরিকা-ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে। ইতিমধ্যেই ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। যেটি দিয়ে সমগ্র বিশ্বে সরবরাহ হওয়া ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেলের জাহাজ যাতায়াত করে। এর ফলে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil Price) দাম বৃদ্ধি পেতে পারে। গত শুক্রবার, প্রতি ব্যারেলে দাম ৭৩ ডলারে বন্ধ হয়। যা মাত্র ১ মাসের মধ্যে দামে ৬ ডলার বৃদ্ধির বিষয়টিকে স্পষ্ট করে। মনে করা হচ্ছে যে এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলারে পৌঁছতে পারে। এমতাবস্থায়, স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠতে পারে যে ভারতীয় কোম্পানিগুলি এই আঘাত সহ্য করার জন্য কতটা প্রস্তুত? বর্তমান প্রতিবেদনে এই প্রসঙ্গে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপিত করা হল।
অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil Price) দাম বৃদ্ধি পেতে পারে:
জানিয়ে রাখি যে, ইতিমধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইজরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন। যার ফলে ইরান প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। এতে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ET-র একটি রিপোর্ট অনুসারে, ভারতীয় তেল শোধনাগার কোম্পানিগুলি এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। এই ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে, ইরানের যুদ্ধ দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে। যার ফলে তেলের বাজারে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব পড়বে এবং তেলের উচ্চ মূল্য দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকার সম্ভাবনাও থাকবে।

ভারতের ব্যাকআপ প্ল্যান কী: তবে, ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধির তাৎক্ষণিক কোনও সম্ভাবনা নেই। গত ৩ বছর ধরে দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের দামের পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে কোম্পানিগুলি রিটেল মূল্যে কোনও পরিবর্তন করেনি। কিন্তু, অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি তাদের পরিশোধন মার্জিন হ্রাস করতে পারে এবং দেশের আমদানির খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে। এটি চলতি হিসেবের ঘাটতি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং ভারতীয় মুদ্রা তথা রুপির ওপর চাপ সৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
আরও পড়ুন: ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের আবহে কাতারে আটকে ভারতের এই টিম! বাতিল হল ম্যাচ
জানিয়ে রাখি যে, ভারত ইরান থেকে তেল আমদানি করে না। তবে ভারতে তেলের ঠিকানাগুলিতে আক্রমণের ফলে সরবরাহ কমে যেতে পারে এবং দাম বেড়ে যেতে পারে। হরমুজ প্রণালী ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আরও পড়ুন: ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের আবহে লাভবান হবে এই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা? শেয়ারের দিকে নজর বিনিয়োগকারীদের
ভারতের ৪০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এবং ৫৫ শতাংশ LNG এই পথ দিয়ে আসে। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেল শোধনাগারগুলি সম্ভাব্য বিকল্পগুলি নিয়ে কাজ করছে। যার মধ্যে রয়েছে সৌদি ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর বন্দর থেকে তেল লোড করা, পাশাপাশি উপসাগরের বাইরের দেশগুলিতে অতিরিক্ত অর্ডার দেওয়ার বিষয়ও সামিল হয়েছে।













