বাংলা হান্ট ডেস্ক: বর্তমানে উপসাগরীয় দেশগুলিতে উত্তেজনা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইতিমধ্যেই আমেরিকা এবং ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে একটি আক্রমণাত্মক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করেছে। এই অভিযানে মধ্যে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হচ্ছে। প্রতিশোধ হিসেবে, ইরান কাতার থেকে শুরু করে কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এহেন যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র অপরিশোধিত তেলের ওপর। এদিকে, বিশ্বজুড়ে শেয়ার বাজার (Share Market) যখন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে, এই আবহেই ভারতীয় শেয়ার বাজারের জন্য এই সঙ্কট একটি রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির জন্য লাভের বড় সুযোগ নিয়ে এসেছে।
ONGC-র শেয়ারের (Share Market) দামে হতে পারে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি:
বর্তমানে বাজার পতন এবং আতঙ্কের আশঙ্কার মুখোমুখি হলেও এই ভূ-রাজনৈতিক সঙ্কট ভারতের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ONGC-র জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক লাভের কারণ হতে পারে। অর্থনীতির একটি সহজ অঙ্ক আছে যে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যখন অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়, তখন স্থল ও সমুদ্র থেকে তেল উত্তোলনকারী কোম্পানিগুলি লাভবান হয়। যেহেতু ONGC-র প্রধান কাজ হল অপরিশোধিত তেল অনুসন্ধান এবং উৎপাদন, তাই যখন অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাবে, তখন কোম্পানিটি আন্তর্জাতিক বাজারে তার উত্তোলিত তেল অনেক বেশি এবং আকর্ষণীয় হারে বিক্রি করতে সক্ষম হবে। যার প্রত্যক্ষ এবং উল্লেখযোগ্য প্রভাব হবে কোম্পানির ব্যারেল প্রতি আয় এবং সামগ্রিক লাভের মার্জিনে বৃদ্ধি। এই কারণেই, আগামী সোমবার বাজার খোলার সময়, বিনিয়োগকারীদের ONGC-র শেয়ারে বিপুল ক্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

ONGC-র শেয়ার বৃদ্ধি পেয়েছ: শেয়ার বাজারে এই রাষ্ট্রায়ত্ত্য সংস্থার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ইতিমধ্যেই পরিলক্ষিত হয়েছে। গত বছরের তথ্যের দিকে তাকালে দেখা যাবে যে, ONGC-র শেয়ারের দাম প্রায় ২৩.৯১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে, চলতি বছরের শুরু থেকে, এই শেয়ারের দাম ১৭.৩০ শতাংশের অসাধারণ বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে। কোম্পানির শেয়ার বর্তমানে ২৭৯.৯০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। সম্প্রতি এই শেয়ারটি ৫২ সপ্তাহের সর্বোচ্চ ২৮২.৫০ টাকার স্তর স্পর্শ করেছে। এই বিষয়টি থেকেই কোম্পানির কর্মক্ষমতা অনুমান করা যায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সংস্থার শেয়ার আবারও একটি নতুন রেকর্ড তৈরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলেই অনুমান করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, বিগত ৫ বছরে ONGC-র শেয়ার প্রায় ১৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরও পড়ুন: হোলির আবহে ট্রেনের ভিড় সামলাবে AI, নির্ধারণ করবে রুটও! যাত্রীদের সুবিধার্থে বড় পদক্ষেপ রেলের
একজন লাভ করলে, অন্যজনের ক্ষতি: উল্লেখ্য যে, শেয়ার বাজারের প্রতিটি ঘটনার দু’টি দিক থাকে। অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি যদিও ONGC-র মতো তেল উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলির জন্য লাভ এনে দিতে পারে। তবে, এটি অন্যান্য সংস্থাগুলিকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। ইন্ডিয়ান অয়েল (IOCL), ভারত পেট্রোলিয়াম (BPCL) এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম (HPCL)-এর মতো তেল বিপণন সংস্থাগুলি অপরিশোধিত তেল কিনে তাদের শোধনাগারগুলিতে পরিশোধন করে।
আরও পড়ুন: Maruti Suzuki-র নয়া ধামাকা! এবার Baleno, Ignis, Grand Vitara, XL6 কেনা যাবে আরও সহজে
এই পেট্রোলিয়াম কোম্পানিগুলির কাঁচামাল হিসেবে অপরিশোধিত তেল কাজ করে। বাজারে কাঁচামালের দাম যখন আরও বেশি হয়ে যায়, তখন এই পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলির খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। যা তাদের মুনাফা হ্রাসের আবহ তৈরি করতে পারে।
সতর্কীকরণ: শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের বিষয়টি অত্যন্ত ঝুঁকির। তাই, বিনিয়োগের আগে অবশ্যই অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ গ্রহণ করুন।













