বাংলা হান্ট ডেস্কঃ মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় (Beldanga) টানা বিক্ষোভ ও রেল অবরোধের জেরে কৃষ্ণনগর–লালগোলা শাখায় আপাতত ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল পূর্ব রেলে (Eastern Railway)। রেল সূত্রে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ওই নির্দিষ্ট সেকশনে কোনও ট্রেন চালানো হবে না।
কী নিয়ে বিক্ষোভ বেলডাঙ্গায় (Beldanga)?
শুক্রবার ঝাড়খণ্ডে বেলডাঙার এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর প্রতিবাদে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় (Beldanga) রেল অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু হয়। সেই বিক্ষোভ শনিবারেও অব্যাহত থাকে। পাশাপাশি, বিহারে আরেক পরিযায়ী শ্রমিককে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে ফের একই এলাকায় রেল অবরোধ করা হয়। টানা এই আন্দোলনের ফলে রেল চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
অভিযোগ উঠেছে, অবরোধ চলাকালীন রেল সম্পত্তির ক্ষতি করারও চেষ্টা করা হয়েছে। একাধিক লেভেল ক্রসিং ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং রেললাইনের ক্ষতি করার চেষ্টা হয়েছে বলে রেল সূত্রে দাবি। এই পরিস্থিতিতে কৃষ্ণনগর থেকে লালগোলা পর্যন্ত ট্রেন চালানো নিরাপদ নয় বলেই মত রেল কর্তৃপক্ষের। তাদের বক্তব্য, এই অংশে ট্রেন চালানো হলে রেল পরিকাঠামো এবং যাত্রী নিরাপত্তা গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এদিকে গোটা পরিস্থিতি নিয়ে রেল বোর্ডের চেয়ারম্যান বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠান। কীভাবে বিক্ষোভ হয়েছে, কোথায় কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং ট্রেন চালাতে গিয়ে কী সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট ইতিমধ্যেই রেল বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠিয়েছেন পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার। সেই রিপোর্ট পর্যালোচনা করেই আপাতত ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর রেল সূত্রে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং রেল পরিকাঠামো সুরক্ষিত করতে কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদে পাঠানো হচ্ছে অতিরিক্ত সংখ্যক RPF ও RPSF। বিক্ষোভের আঁচ যাতে আর রেল সম্পত্তির উপর না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পূর্ব রেল।

আরও পড়ুনঃ ‘আমরা আপনাদের কাস্টডিতে’, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির সামনে আর্জি মমতার, কেন?
অন্যদিকে, বেলডাঙায় (Beldanga) সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনাও নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। ওই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে বড়েয়া মোড় এলাকায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে রাস্তা অবরোধ হয়। পরপর দু’দিন অবরোধের জেরে জাতীয় সড়কে যান চলাচল থমকে যায় এবং গোটা এলাকায় চরম আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। সব মিলিয়ে, বেলডাঙার অশান্তির প্রভাব পড়েছে রেলপথেও। যাত্রী নিরাপত্তা এবং রেল সম্পত্তি রক্ষার স্বার্থেই কৃষ্ণনগর–লালগোলা শাখায় ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে অনড় পূর্ব রেল দপ্তর।












