‘কাঙাল’ পাকিস্তানের উড়ল ঘুম! ২০১৯ সালে দেওয়া ৩৫০ কোটি ডলারের ঋণ ফেরত চাইল UAE

Published on:

Published on:

UAE demands repayment of 3.5 billion dollar loan from Pakistan.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিতে। বিশেষ করে পাকিস্তান (Pakistan) চরম আর্থিক চাপে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে আরব আমিরশাহী পাকিস্তানকে দেওয়া প্রায় ৩৫০ কোটি ডলারের ঋণ দ্রুত ফেরত চেয়েছে, যা ইসলামাবাদের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

পাকিস্তানের (Pakistan) ৩৫০ কোটি ডলারের ঋণ ফেরত চাইল UAE:

সূত্রের খবর, জাতীয় মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে ঋণ শোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সালে আবু ধাবি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট-এর মাধ্যমে এই ঋণ দেওয়া হয়েছিল। আমিরশাহীর তরফে দ্রুত ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়তেই ইসলামাবাদ এপ্রিল মাসেই তিন দফায় অর্থ ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। ১১ এপ্রিল ৪৫০ মিলিয়ন, ১৭ এপ্রিল ২ বিলিয়ন এবং ২৩ এপ্রিল বাকি ১ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হবে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: ৯ ঘণ্টার চাকরি শেষে পরিবারকে সামলে চলত প্রস্তুতি! UPSC-তে সফল হয়ে দৃষ্টান্ত নিখিলের

তবে এই অর্থ ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ফেরত দিলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার কার্যত ফাঁকা হয়ে যেতে পারে। ইতিমধ্যেই দেশটি বৈদেশিক ঋণের চাপে জর্জরিত, তার উপর এপ্রিল মাসেই মোট ৪.৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ শোধের চাপ রয়েছে, যার মধ্যে ১.৩ বিলিয়ন ডলারের ইউরোবন্ডও অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির জেরে পাকিস্তানে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম ব্যাপক হারে বেড়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের উপর আর্থিক চাপ বেড়েছে এবং বিভিন্ন জায়গায় ক্ষোভ বাড়ছে। জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধির ফলে সরকারকে চরম সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে।

UAE demands repayment of 3.5 billion dollar loan from Pakistan.

আরও পড়ুন: যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ! চিনের মধ্যস্থতায় বৈঠকে পাকিস্তান-আফগানিস্তান

দীর্ঘদিন ধরে আরব দেশগুলির উপর আর্থিকভাবে নির্ভরশীল পাকিস্তান (Pakistan) বারবার ঋণ নিয়ে অর্থনীতি টিকিয়ে রেখেছে। ২০১৮ সালেও আমিরশাহী থেকে ২ বিলিয়ন ডলার ঋণ নেওয়া হয়েছিল, যার উপর নিয়মিত সুদ দিতে হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ঋণ শোধের জন্য চাপ বাড়তে শুরু করলে অবশেষে সেই দায় মেটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামাবাদ। তবে এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।