মিলত ট্যাব কেনার জন্য ১০০০০, রাজ্যে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ‘তরুণের স্বপ্ন প্রকল্প’?

Published on:

Published on:

Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পূর্বতন সরকারের একাধিক সামাজিক প্রকল্প নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বিজেপি ক্ষমতায় আসতে পূর্বের মমতার সরকারের যেসকল প্রকল্প নিয়ে চৰ্চা চলছে সেই তালিকায় তরুণের স্বপ্ন প্রকল্পও (Taruner Swapna Scheme)। এই প্রকল্পের আওতায় একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণির স্কুল পড়ুয়ারাদের এককালীন ১০,০০০ টাকা করে দেওয়া হয়ে থাকত। এবার বিজেপি সরকারের আমলে কী বন্ধ হয়ে যাবে তরুণের স্বপ্ন (Government Scheme)?

তরুণের স্বপ্ন নিয়ে কী সিদ্ধান্ত? Taruner Swapna Scheme

সূত্রের খবর, সম্প্রতি বিকাশ ভবনের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ২০২০ সালে কোভিডের সময় থেকেই শিক্ষার ডিজিটালকরণে জোর দেয় তৎকালীন রাজ্য সরকার। ডিজিটাল শিক্ষায় শিক্ষিত করতে এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের পড়ুয়াদের মোবাইল এবং ট্যাবলেটের মাধ্যমে পড়াশোনার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ গড়ে দেওয়ার চেষ্টায় এই প্রকল্প আনা হয়। যার মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস এবং শিক্ষামূলক অ্যাপ ব্যবহারে সুবিধা হয়। এই উদ্দেশেই চালু হয়েছিল তরুণের স্বপ্ন।

সরকারি এবং সরকার পোষিত স্কুলের পাশাপাশি, মাদ্রাসা এবং সংখ্যালঘু বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরাও এই প্রকল্পের সুবিধার আওতায় আসে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় প়ড়ুয়াদের ট্যাব দেওয়া ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্প বন্ধ করার দাবি তুলেছেন শিক্ষকদের একাংশ। প্রকল্পের টাকা স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ করার দাবি জানাচ্ছেন তারা। তাদের কথায়, বহু পড়ুয়া রয়েছে যাঁরা ট্যাবের টাকার জন্য একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে টাকা পেলে পড়াশোনা ছেড়ে দেয়।

জানা যাচ্ছে, সম্প্রতি বিকাশ ভবনে বিজেপি বিধায়ক দলের সঙ্গে শিক্ষা দফতরের বৈঠকেও এই প্রকল্পের যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। যদিও শিক্ষকদের আরেকটা অংশ মনে করছে, এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কারণ অনেক পড়ুয়ারই পারিবারিক সামর্থ থাকে না স্মার্টফোন বা ট্যাব কেনার। সরকারি অনুদানে তা কিনে পড়াশোনায় সাহায্য হয়।

Taruner Swapna Scheme(1)

আরও পড়ুন: মাসে ১০ হাজার টাকার চাকরি ছেড়ে ১৫০ কোটির সাম্রাজ্য! সিভিল সার্ভিস নয়, স্টার্টআপেই বাজিমাত অমিত নিগমের

অনেক মেধাবী কৃতি পড়ুয়ারাও সরকারি প্রকল্পের টাকার দ্বারাই প্রযুক্তির ব্যবহার করে পড়াশোনার ক্ষেত্রে তা কাজে লাগায়। তাই তাদের ক্ষেত্রে এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলেই মত শিক্ষকদের একাংশের। তবে শিক্ষা মহলের অধিকাংশেরই মত, পারিবারিক আয় বিবেচনা করে তবেই এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া উচিৎ। যদিও বিজেপি সরকার আগেই জানিয়েছে, সমাজকল্যাণমূলক কোনও প্রকল্প বন্ধ করা হবে না। এবার সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয় সেটাই দেখার।