বাংলাহান্ট ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের ভোপালের বাসিন্দা অমিত নিগমের সাফল্যের কাহিনি (Success Story) আজ বহু তরুণ উদ্যোক্তার কাছে অনুপ্রেরণার উদাহরণ। আমলা, বিচারপতি ও আইনজীবীদের সমৃদ্ধ পরিবারে জন্ম হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই তাঁর উপর প্রশাসনিক পরিষেবায় যোগ দেওয়ার চাপ ছিল প্রবল। পরিবারের অনেকেই চেয়েছিলেন তিনি সিভিল সার্ভিস বা বিচার বিভাগের মতো সম্মানজনক পেশায় যোগ দিন। কিন্তু অমিতের আগ্রহ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে। প্রশাসনিক চাকরির বদলে তিনি ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনার জগতে নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে চেয়েছিলেন। সেই সিদ্ধান্তই পরবর্তীকালে তাঁর জীবন বদলে দেয়। বর্তমানে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ডিজিটাল পেমেন্ট সংস্থা FindiBANKIT দেশের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল ফিনটেক কোম্পানি হিসেবে উঠে এসেছে।
অমিত নিগমের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
অমিত নিগমের বাবা ছিলেন এলাহাবাদ হাইকোর্টের একজন সিনিয়র আইনজীবী। ফলে স্বাভাবিকভাবেই পরিবারের মধ্যে পড়াশোনা ও প্রতিষ্ঠিত পেশার গুরুত্ব ছিল অত্যন্ত বেশি। এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর তিনি ব্যবসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে পড়াশোনা করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে নয়ডার আইআইপিএম থেকে মার্কেটিং-এ পিজিডিএম ডিগ্রি অর্জন করেন। সেই সময় অনেকেই তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে অমিত নিজের লক্ষ্য থেকে সরে যাননি। তিনি বিশ্বাস করতেন, কর্পোরেট জগতে কাজের অভিজ্ঞতা এবং নতুন ভাবনার মাধ্যমে সমাজে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।
আরও পড়ুন: গরমে স্বস্তি দিতে আসছে ঝেঁপে বৃষ্টি, আগামী কয়েক ঘণ্টায় ভিজবে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা: আবহাওয়ার খবর
১৯৯৩ সালে দিল্লিতে ইন্ডিয়ান রেয়ন লিমিটেডে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি হিসেবে তাঁর কর্মজীবনের সূচনা হয়। সেই সময় তাঁর মাসিক বেতন ছিল মাত্র ১০ হাজার টাকা। ছোট বেতন দিয়ে শুরু হলেও অমিতের শেখার আগ্রহ ছিল প্রবল। ধীরে ধীরে তিনি এসকোটেল মোবাইল কমিউনিকেশনস এবং উষার মতো সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তবে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় মোড় আসে যখন তিনি টেলিকম সংস্থা এয়ারটেলে যোগ দেন। সেখানে প্রায় আট বছর ধরে বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের নেতৃত্ব দেন তিনি। এই সময় এয়ারটেলের প্রতিষ্ঠাতা সুনীল ভারতী মিত্তালের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ পান অমিত। কর্পোরেট নেতৃত্ব, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং গ্রাহক পরিষেবার নানা সূক্ষ্ম দিক তিনি সেই সময় শিখেছিলেন।
দীর্ঘ কর্পোরেট অভিজ্ঞতার পর অমিত উদ্যোক্তা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ২০১১ সালে তিনি ‘স্পাইস মানি’ নামে একটি ফিনটেক সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠা করেন। তবে তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল আরও বড়। দেশের গ্রামাঞ্চল ও প্রান্তিক মানুষের কাছে আর্থিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্ন থেকেই ২০১৭ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন FindiBANKIT। মাত্র ১০ লক্ষ টাকার প্রাথমিক বিনিয়োগ নিয়ে শুরু হয়েছিল এই স্টার্টআপ। অমিতের লক্ষ্য ছিল এমন মানুষদের ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং পরিষেবার আওতায় আনা, যারা প্রচলিত ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার বাইরে থেকে গিয়েছিলেন।
FindiBANKIT খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় নিজেদের পরিষেবা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়। ডিজিটাল পেমেন্ট, অর্থ স্থানান্তর, ব্যাঙ্কিং সহায়তা এবং ছোট ব্যবসায়ীদের আর্থিক পরিষেবার ক্ষেত্রে এই সংস্থা দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে যেখানে ব্যাঙ্ক শাখার অভাব রয়েছে, সেখানে এই সংস্থার পরিষেবা বহু মানুষের দৈনন্দিন জীবন সহজ করেছে। অমিত নিগমের কৌশল ছিল প্রযুক্তিকে সহজভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। তাঁর মতে, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি শুধুমাত্র শহরকেন্দ্রিক হলে চলবে না, গ্রামের সাধারণ মানুষকেও ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করতে হবে (Success Story)।

আরও পড়ুন: কঙ্গোয় ইবোলার থাবা! সতর্ক ভারত, আফ্রিকার তিন দেশে সফরে নিষেধাজ্ঞা
মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই FindiBANKIT-এর ব্যবসায় অভাবনীয় সাফল্য (Success Story) আসে। যে সংস্থা শুরু হয়েছিল সীমিত মূলধন নিয়ে, তার বার্ষিক টার্নওভার বর্তমানে প্রায় ১৫০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। আজ এই সংস্থা ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মগুলির মধ্যে অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অমিত নিগমের এই যাত্রা প্রমাণ করে, শুধুমাত্র পারিবারিক ঐতিহ্য নয়, নিজের স্বপ্ন ও সিদ্ধান্তের উপর ভরসা রাখলে সাফল্য অর্জন সম্ভব। মাসে ১০ হাজার টাকার চাকরি থেকে শুরু করে শতকোটি টাকার সংস্থা গড়ে তোলার এই গল্প আজ নতুন প্রজন্মের কাছে সাহস, অধ্যবসায় এবং উদ্ভাবনী চিন্তার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।













