বাংলাহান্ট ডেস্ক: ইরান (Iran)-ইজরায়েল (Israel) সংঘাতের আবহে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ নিয়েও আরও কড়া অবস্থান নিতে চলেছে তেহরান। ‘শত্রু দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত রাষ্ট্রগুলির অর্থাৎ আমেরিকা (America) ও ইজরায়েলের সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ইরানিদের কথা বলা বা সাক্ষাৎকার দেওয়াকে আইনের আওতায় অপরাধ হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব সামনে এসেছে। রবিবার ইরানের পার্লামেন্টে এই সংক্রান্ত একটি বিল অনুমোদিত হয়েছে। তবে সেটি এখনও চূড়ান্ত আইন নয়। পার্লামেন্টে পাশ হওয়ার পর এখন বিলটি গার্ডিয়ান কাউন্সিলের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আইনজ্ঞ ও ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে গঠিত এই ১২ সদস্যের কাউন্সিল সম্মতি দিলে তবেই নতুন বিধান কার্যকর হবে।
আমেরিকা-ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমে কথা বললেই হতে পারে জেল! ইরানে (Iran) আসছে নতুন আইন:
প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, ইরানের (Iran) নাগরিকরা ‘শত্রু দেশের’ সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকার, কথোপকথন বা অন্য কোনও ধরনের যোগাযোগ করতে পারবেন না। এই বিধিনিষেধ অমান্য করলে ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। শুধু মার্কিন বা ইজ়রায়েলি সংবাদমাধ্যম নয়, অন্য বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গেও যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালুর কথা বলা হয়েছে। বিদেশি কোনও সংবাদ সংস্থাকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার আগে ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রককে বিষয়টি জানাতে হবে এবং বিদেশ মন্ত্রকের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নিতে হবে। অনুমতি ছাড়া যোগাযোগ করলে জরিমানা এবং কিছু সামাজিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার মতো শাস্তির ব্যবস্থাও প্রস্তাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
আরও পড়ুন: নারীদের জন্য বিশেষ পরিষেবা! মঙ্গলবার থেকে রাস্তায় নামছে পিংক বাস, কোথায়?
বিদেশি সংস্থাকে সাহায্য করার অভিযোগে ইরানে আগেও কঠোর পদক্ষেপের নজির রয়েছে। গত বছর ইজ়রায়েলের সঙ্গে সংঘাতের সময় ‘শত্রু দেশ’-এর কোনও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে আইন করা হয়েছিল। সেই আইনের আওতায় এক ইরানি চিত্রসাংবাদিকের বিরুদ্ধে ইজ়রায়েলি সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার এবং ছবি সরবরাহের অভিযোগ ওঠে। পরে তাঁকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সেই ঘটনার পর এবার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নিয়েছে তেহরান। ফলে সাংবাদিক, সংবাদদাতা এবং সাধারণ নাগরিকদের বিদেশি মিডিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে প্রস্তাবিত বিল নিয়ে ইরানের ভিতরেও এখনও পুরোপুরি চূড়ান্ত অবস্থান তৈরি হয়নি। ইরানি পার্লামেন্টের বিচার ও আইন কমিশনের সদস্য ওসমান সালারি জানিয়েছেন, বিলটির বিষয়ে এখনও শেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। অর্থাৎ গার্ডিয়ান কাউন্সিলের পর্যালোচনার পর এর ভাষা বা শাস্তির বিধানে কোনও পরিবর্তন আসে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তবু পার্লামেন্টে অনুমোদনের ঘটনা থেকেই বোঝা যাচ্ছে, বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগকে তেহরান কতটা সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে চলতি সংঘাতের সময়ে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে তথ্য আদানপ্রদান নিয়ে ইরানি সরকারের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

আরও পড়ুন: একটুর জন্য মিস! শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির সুযোগ হাতছাড়া টিম ইন্ডিয়ার
নতুন বিধান কার্যকর হলে ইরানে (Ieran) সংবাদ সংগ্রহ এবং মত প্রকাশের ক্ষেত্রে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা আরও সীমিত হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে সাধারণ ইরানিদের ক্ষেত্রেও বিদেশি সাংবাদিক বা সংবাদ সংস্থার সঙ্গে কথা বলার আগে সরকারি অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হবে। প্রস্তাবিত আইনে বিদেশি কোনও প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করা বা তাদের সহায়তা করার ক্ষেত্রে আরও কঠোর শাস্তির কথাও রয়েছে। পরিস্থিতি বিশেষ হলে সর্বোচ্চ ৩০ বছরের কারাদণ্ড পর্যন্ত দেওয়ার বিধান রাখা হতে পারে। ফলে গার্ডিয়ান কাউন্সিলের অনুমোদনের পর এই বিল কোন রূপে আইনে পরিণত হয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।













