বাংলা হান্ট নিউজ ডেস্কঃ ভারতীয় ফুটবল দলকে (Indian Football Team) চরম বাস্তবের সামনে দাঁড় করিয়ে দিল লাতিন আমেরিকান পাওয়ারহাউস উরুগুয়ে। ম্যাচের শেষের স্কোরলাইন বলছে ভারত ১ – উরুগুয়ে ৬। উরুগুয়ের বিরুদ্ধে (India vs Uruguay) ভালো লড়াই আশা করেছিলেন ভক্তরা। কিন্তু তাদের দাপুটে ফুটবলের সামনে প্রথমার্ধে ভারতের লড়াই পুরোপুরি ম্লান হয়ে গেল। পানামার বিরুদ্ধে ১-১ ফলে ড্র করে গোটা বিশ্বের নজর কেড়ে নিয়েছিল উরুগুয়ে। ব্রাজিলের কাছে ০-৪ ফলে হারলেও আনোয়ার, ভার্গিস, অভিষেক-দের লড়াই প্রশংসা আদায় করেছিল। কিন্তু উরুগুয়ে এদিন প্রীতি ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো খালিদ জামিলের (Khalid Jamil) ছেলেদের দুর্বলতাগুলো।
উরুগুয়ের কাছে ভারতের এভাবে বিধ্বস্ত হওয়ার দুটো কারণ খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত ভারতীয় দলের কোচ খালিদ জামিল এদিন অতি উৎসাহী হয়ে বেশ কিছু ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। প্রথমার্ধে পিছিয়ে গিয়েও লুজ বল থেকে অনিরুদ্ধ থাপার গোলে সমতায় ফিরেছিল ভারত। নিজের দলের লড়াকু পারফরম্যান্স দেখে ম্যাচের গতিপ্রকৃতি না বুঝে অতি উৎসাহী হয়ে দ্বিতীয়ার্ধে কিছু ভুল প্লেয়ার পরিবর্তন করে ফেলেন খালিদ। উরুগুয়ের কিংবদন্তি ফুটবলার ও বর্তমান কোচ দিয়েগো ফোরল্যান এদিন দ্বিতীয়ার্ধে আর্সেনাল, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে খেলা তারকা মিডফিল্ডার লুকাস টরেইরাকে মাঠে আনতেই মাঝমাঠ পুরোপুরি লাতিন আমেরিকান দলটির নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

অতিরিক্ত সাহসী হয়ে দ্বিতীয়ার্ধে খালিদ দৌড়ে বেড়ানো ও প্রেস করতে অভ্যস্ত আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার এডমুন্ডকে তুলে নিয়ে মাঠে আনেন তারকা মিডফিল্ডার সাহাল আব্দুল সামাদকে। সামাদ টেকনিক্যালি অনেক বেশি নিখুঁত হলেও এই ম্যাচে শিল্পী ফুটবলারের চেয়ে মাঝমাঠে বেশি প্রয়োজন ছিল অতিরিক্ত দৌড়ে বেড়াতে সক্ষম ফুটবলারের। ফলে সাহাল আসতেই ভারত মাঝমাঠের সামান্য নিয়ন্ত্রণটুকু হারিয়ে ফেলে। আর সেই সুযোগে একের পর এক আক্রমণ তুলে এনে ভারতকে ছিন্নভিন্ন করে ফেলে ম্যাক্সি আরুহো-রা।
দ্বিতীয়ত এই ম্যাচেও খালিদ জোর করে নিজের পছন্দের গোলরক্ষক গুরপ্রীতকে আরও একবার নামান। আজও বেশ কিছু শট বাঁচাতে ব্যর্থ হন গুরপ্রীত। ৭০ মিনিটে তাকে তুলে নেওয়া হলেও ততক্ষণে ভারতের যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গেছে। প্রথমার্ধে ভারত যেখানে ১০টা শট তারমধ্যে ৩ টে অন টার্গেট, সাথে বিপক্ষ বক্সে ১৩ টা টাচ রেখে উরুগুয়ের ওপর চাপ তৈরী করেছিল, দ্বিতীয়ার্ধে তার ছিটেফোঁটাও দেখা গেল না। শেষদিকে পরিবর্ত হিসেবে নামা সানান একবার উরুগুয়ে গোলরক্ষকের পরীক্ষা নেন। আর রায়ান উইলিয়ামসও দুরহ কোণ থেকে গোলের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। উল্টে বেশ কিছু এমন গোল খেলেন গুরপ্রীত যা তার জায়গায় অন্য কেউ থাকলে হয়তো বাঁচিয়ে দিতে পারতেন।
এই ইন্টারন্যাশনাল ব্রেকে ভারতের প্রথম ম্যাচে পানামা বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি যে ফুটবলারটি পরিশ্রম করে খেলেছিলেন, তিনি হলেন বিক্রম প্রতাপ সিং। তার প্রেসিং ও চনমনে ফুটবলের জন্য আক্রমণভাগে রায়ান, মানবীরদের কাজটা সহজ হয়েছিল কিছুটা। ডিফেন্সেও সাধ্যমতো সাহায্য করেছিলেন। কিন্তু ব্রাজিল এবং উরুগুয়ে, দুই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেই তাকে দলের প্রথম একাদশ থেকে বাদ দিলেন খালিদ জামিল যা সত্যিই অবাক করেছে ফুটবল বিশেষজ্ঞদের।













