বাংলা হান্ট ডেস্ক: ভারতীয় রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এখন নতুন ভরসার নাম ‘CORAS’। যার পুরো নাম কমান্ডোজ ফর রেলওয়ে সিকিউরিটি। এবার এই CORAS-ই থাকছে বন্দে ভারতের (Vande Bharat Express) নিরাপত্তায়। আরপিএফের এই বিশেষ এলিট ইউনিটকে সম্প্রতি দেখা গেল জম্মু তাওয়াই স্টেশনে কড়া প্রহরায়। এতদিন সাধারণ মানুষের কাছে এই বাহিনীর নাম পরিচিত থাকলেও তাদের কার্যকলাপ খুব একটা প্রকাশ্যে আসেনি। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। জম্মু থেকে শ্রীনগর পর্যন্ত নতুন বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের নিরাপত্তার দায়িত্ব এখন এই বিশেষ কমান্ডো বাহিনীর কাঁধে। সংবেদনশীল কাশ্মীর উপত্যকায় জঙ্গি হামলার আশঙ্কার মধ্যে যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র এবং রেল মন্ত্রক বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে CORAS-কে।
এবার বন্দে ভারতের (Vande Bharat Express) পাহারা দেবে এলিট কমান্ডো বাহিনী ‘ CORAS
২০১৯ সালে এই বাহিনী গঠন করা হয়েছিল মূলত মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় রেললাইন, ট্রেন এবং রেলের সম্পত্তিকে রক্ষা করার জন্য। প্রথমদিকে ছত্তিশগড়ের জঙ্গলমহলে এই বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পরে উত্তর-পূর্ব ভারতের অশান্ত এলাকাতেও রেলের নিরাপত্তায় তাদের ব্যবহার করা শুরু হয়। বর্তমানে জম্মু-কাটরা-শ্রীনগর-বারামুল্লা রুটে এই বাহিনীকে নামানো হয়েছে। প্রায় ৩২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। সম্প্রতি রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের উদ্যোগে শ্রীনগর থেকে জম্মু বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের (Vande Bharat Express) সংখ্যা ৮ থেকে বাড়িয়ে ২০ করা হয়েছে। যাত্রী সংখ্যা এবং ট্রেন চলাচল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও জোরদার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: কোটি কোটি টাকায় রাজ্যসভার টিকিট বিক্রি করেছে আপ! বিজেপিতে যোগ দিয়েই অভিযোগ হরভজনের
কালো পোশাক, ট্যাকটিক্যাল ভেস্ট, হেলমেট এবং অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত CORAS কমান্ডোদের উপস্থিতি ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি দুই কিলোমিটার অন্তর বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন রাখা হবে। শুধু স্টেশন বা ট্র্যাক নয়, ট্রেনের ভিতরেও থাকবেন এই বিশেষ কমান্ডোরা। এমনকি লোকো পাইলটদেরও বুলেটপ্রুফ ভেস্ট এবং হেলমেট পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপত্যকায় সাম্প্রতিক সন্ত্রাসবাদী হামলার পর যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, এই বিশেষ বাহিনী মোতায়েনের ফলে তা অনেকটাই কমবে বলেই মনে করা হচ্ছে। যাত্রীরাও এই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
বর্তমানে বারামুল্লায় CORAS-এর সদর দফতরে স্ট্যান্ডবাই অবস্থায় রয়েছে প্রায় ১১৪ ও ১১৭ জনের বিশেষ ইউনিট। সব মিলিয়ে এই বাহিনীতে সদস্য সংখ্যা প্রায় ৭০০। নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে পুরো রুটজুড়ে বসানো হয়েছে প্রায় ৩ হাজার সিসিটিভি ক্যামেরা। পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমেও চলছে সার্বক্ষণিক নজরদারি। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, জঙ্গি কার্যকলাপ, নাশকতা বা বিস্ফোরক হামলার যে কোনও সম্ভাবনা রুখতে সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রেলপথে আইইডি বা ল্যান্ডমাইন পুঁতে হামলার আশঙ্কা মাথায় রেখেই এই নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।
CORAS বাহিনীর সদস্যরা বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। ল্যান্ডমাইন খুঁজে বের করা, আইইডি নিষ্ক্রিয় করা, পণবন্দি উদ্ধার অভিযান চালানো কিংবা জঙ্গি ঘাঁটিতে ঢুকে দ্রুত অপারেশন চালানোর ক্ষেত্রে এই বাহিনী দক্ষ বলে দাবি রেল কর্তৃপক্ষের। হরিয়ানার মানেসরে NSG ক্যাম্পে এবং হায়দরাবাদে গ্রেহাউন্ড বাহিনীর সঙ্গে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন CORAS সদস্যরা। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কীভাবে দ্রুত অভিযান চালাতে হয়, সেই বিষয়ে তাঁদের আলাদা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ফলে এই বাহিনীকে অনেকেই NSG, CISF বা CRPF-এর বিশেষ ইউনিটগুলির সমতুল্য বলেই মনে করছেন।

আরও পড়ুন: অবাক কাণ্ড! রেগে গিয়ে কোটি কোটি টাকা দান করলেন Google-এর কো-ফাউন্ডার, কেন এমন সিদ্ধান্ত?
সম্প্রতি পহেলগাঁও হামলার পর উপত্যকার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে জম্মু-শ্রীনগর বন্দে ভারত (Vande Bharat Express) রুটে CORAS মোতায়েনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছে নিরাপত্তা মহল। কেন্দ্রের লক্ষ্য, কাশ্মীরে সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়ানো এবং পর্যটন ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখা। তাই শুধু প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি নয়, অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কমান্ডো বাহিনী দিয়েও রেলপথ সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা চলছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বাহিনীর উপস্থিতি উপত্যকায় জঙ্গিদের কাছে বড় বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।













