মিলবে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ, বাংলায় চালু হচ্ছে বিশ্বকর্মা যোজনা, আবেদন পদ্ধতি জানুন

Published on:

Published on:

Vishwakarma Yojana Big Update In Bengal
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যে সরকার গঠনের পর একের পর এক কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালুর পথে হাঁটছে নতুন প্রশাসন। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা (Vishwakarma Yojana)। দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহ্যবাহী পেশার সঙ্গে যুক্ত কারিগরদের আর্থিক ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতেই এই প্রকল্প চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের ১৮ ধরনের পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন বলে জানানো হয়েছে। শুধু ঋণ নয়, প্রশিক্ষণ, আধুনিক সরঞ্জাম কেনার টাকা এবং ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহভাতাও মিলবে এই প্রকল্পে।

কী এই বিশ্বকর্মা যোজনা (Vishwakarma Yojana)?

পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা (Vishwakarma Yojana) কেন্দ্র সরকারের একটি বিশেষ প্রকল্প, যা ২০২৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর চালু হয়েছিল। মূলত গ্রামের ও প্রান্তিক এলাকার ছোট কারিগর এবং হস্তশিল্পীদের আর্থিকভাবে শক্তিশালী করতেই এই প্রকল্প আনা হয়। যাঁরা নিজের হাতে বা সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে বিভিন্ন শিল্পকর্ম তৈরি করেন, তাঁদের কাজের মান উন্নত করাই এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য।সম্প্রতি নবান্নে হওয়া প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, আয়ুষ্মান ভারত, পিএম শ্রী, উজ্জ্বলা যোজনার পাশাপাশি বিশ্বকর্মা যোজনাও বাংলায় চালু করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বিশ্বকর্মা যোজনায় কী কী সুবিধা মিলবে?

এই প্রকল্পে কারিগরদের প্রথমে ৫ থেকে ৭ দিনের বেসিক ট্রেনিং দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ চলাকালীন প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে স্টাইপেন্ডও দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ হলে আবেদনকারীদের পিএম বিশ্বকর্মা সার্টিফিকেট ও পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। পাশাপাশি আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ই-ভাউচারের মাধ্যমে ১৫ হাজার টাকার আর্থিক সাহায্য মিলবে।

এছাড়াও নিজের ব্যবসা শুরু করা বা ব্যবসা বাড়ানোর জন্য ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণের সুবিধা রয়েছে। প্রথম ধাপে ১ লক্ষ টাকা এবং পরে দ্বিতীয় ধাপে আরও ২ লক্ষ টাকা পাওয়া যাবে। এই ঋণের সুদের হার রাখা হয়েছে মাত্র ৫ শতাংশ। ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে প্রতিটি লেনদেনে ১ টাকা করে ইনসেনটিভও দেওয়া হবে। মাসে সর্বাধিক ১০০টি লেনদেন পর্যন্ত এই সুবিধা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি কারিগরদের তৈরি পণ্যের ব্র্যান্ডিং, বিজ্ঞাপন এবং ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে বিক্রির ক্ষেত্রেও সরকারি সাহায্য মিলবে।

কারা আবেদন করতে পারবেন?

এই প্রকল্পে আবেদন করতে হলে আবেদনকারীকে ১৮টি নির্দিষ্ট ঐতিহ্যবাহী পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ছুতোর, কামার, স্বর্ণকার, কুমোর, রাজমিস্ত্রি, দর্জি, নাপিত, ধোপা, মুচি, খেলনা নির্মাতা, ঝুড়ি প্রস্তুতকারক-সহ একাধিক পেশা। আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে এবং তাঁকে স্বনিযুক্ত হতে হবে। সরকারি চাকরিজীবী বা তাঁদের পরিবারের সদস্যরা এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

এছাড়া গত পাঁচ বছরে PMEGP, Mudra বা PM SVANidhi-র মতো কোনও সরকারি ঋণভিত্তিক প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে থাকলে এই প্রকল্পে আবেদন করা যাবে না। একটি পরিবার থেকে একজনই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।

কীভাবে আবেদন করবেন?

এই প্রকল্পে অনলাইন এবং অফলাইন, দু’ভাবেই আবেদন করা যাবে। অনলাইনে আবেদন করতে হলে প্রথমে PM Vishwakarma Portal-এ গিয়ে মোবাইল নম্বর ভেরিফাই করতে হবে। তারপর আধার কার্ডের মাধ্যমে KYC সম্পূর্ণ করে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করার পর আবেদন সম্পূর্ণ হবে।

Several important schemes are about to start in West Bengal.

আরও পড়ুনঃ গরু পাচার রুখতে রাজ্যজুড়ে কড়াকড়ি, ক্ষমতায় এসেই বড় নির্দেশ BJP-র

অফলাইনে আবেদন করতে হলে নিকটবর্তী CSC বা কমন সার্ভিস সেন্টারে যেতে হবে। সেখানে আধার এবং মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে ভেরিফিকেশন ও বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে আবেদন জমা দেওয়া যাবে। আবেদনপত্র জমা হওয়ার পর একটি অ্যাপ্লিকেশন আইডি দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে পরে আবেদনের স্ট্যাটাস দেখা যাবে (Vishwakarma Yojana)।