বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্য সরকারি দপ্তরে কাজের সুযোগ থাকলেও অনেক চুক্তিভিত্তিক গ্রুপ-ডি কর্মীর নির্দিষ্ট পদ নেই, নেই সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব। এই পরিস্থিতি বদলাতে কর্মীদের দক্ষতা যাচাই করে নতুন দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার (West Bengal Government)।কারও যোগ্যতা রয়েছে উচ্চতর পদের কাজ সামলানোর, অথচ সেই দক্ষতা কাজে লাগানোর উপযুক্ত ব্যবস্থা নেই।প্রস্তাব কার্যকর হলে পরীক্ষায় ভালো ফল করা কর্মীদের গ্রুপ-সি পদে উন্নীত করার রাস্তা খুলতে পারে। একই সঙ্গে, যাঁরা সেই সুযোগ পাবেন না, তাঁদেরও বিকল্প পদে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
গ্রুপ ডি কর্মীদের নিয়ে বড় পরিকল্পনা সরকারের (West Bengal Government)
নবান্নের পর্যবেক্ষণ, সরকারি দপ্তরে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের সবাইকে একই মানদণ্ডে বিচার করা ঠিক হবে না। তাঁদের মধ্যে অনেকেই প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও কাজের দক্ষতা রাখেন। তাই কর্মীদের সামর্থ্য যাচাই করে যাঁরা উচ্চতর দায়িত্ব সামলানোর উপযুক্ত, তাঁদের সামনে উন্নতির সুযোগ তৈরি করতে চাইছে প্রশাসন। এতে কর্মীদের কর্মজীবনে অগ্রগতির সম্ভাবনা বাড়বে, পাশাপাশি সরকারি দপ্তরের কাজকর্মেও তাঁদের দক্ষতা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই পরিকল্পনার গুরুত্ব বোঝা যাচ্ছে সেচ ও জলসম্পদ দপ্তরের কর্মীসংখ্যার দিকে তাকালেই। সূত্রের দাবি, এই দপ্তরেই প্রায় ৩২০০ জন চুক্তিভিত্তিক গ্রুপ-ডি কর্মী রয়েছেন। তাঁদের অনেকেই নির্দিষ্ট পদে নিযুক্ত নন; বিভিন্ন সরকারি অফিসে কাজ করলেও প্রত্যেকের দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট নয়। অতীতে নিজেদের আবেদন অনুযায়ী বহু কর্মীকে বাড়ির কাছাকাছি দপ্তরে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তার জেরে কলকাতা ও জেলা সদর দপ্তরের কিছু অফিসে কর্মীর সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হয়ে গিয়েছে।
অথচ নির্দিষ্ট কাজের দায়িত্ব না থাকায় তাঁদের সম্পূর্ণ কর্মক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এই সমস্যার সমাধানেই সংশ্লিষ্ট দপ্তর নতুন প্রস্তাব এনেছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, অন্তত মাধ্যমিক বা সমতুল্য শিক্ষাগত যোগ্যতা রয়েছে, এমন কর্মীদের প্রথমে বাছাই পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা যেতে পারে। এই স্ক্রিনিং টেস্টের নম্বরের উপর থাকবে ৭৫ শতাংশ গুরুত্ব। বাকি ২৫ শতাংশ নির্ধারিত হতে পারে মৌখিক পরীক্ষার ভিত্তিতে। সেই ভাইভা নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে সংশ্লিষ্ট বিভাগের বাইরের কোনও স্বাধীন কর্তৃপক্ষকে।
জানা যাচ্ছে, দুই পরীক্ষার ফল একত্র করে মেধাতালিকা তৈরি হবে। এরপর গ্রুপ-সি পদে শূন্যপদের সংখ্যা বিবেচনা করে সফল কর্মীদের পদোন্নতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। বর্তমানে সরকারি দপ্তরগুলিতে ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট, লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক এবং কম্পিউটার অপারেটরের মতো পদে কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, যোগ্য কর্মীদের এই ধরনের দায়িত্বে নিয়োগ করা যেতে পারে। কোন অফিসে কত কর্মী প্রয়োজন, তা বিবেচনা করেই রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরে তাঁদের কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে পরীক্ষায় মেধাতালিকায় জায়গা না পেলেই যে কর্মীদের বর্তমান কাজের বাইরে রাখা হবে, এমনটা নয়। তাঁদের জন্যও বিকল্প দায়িত্বের ব্যবস্থা করার কথা ভাবা হয়েছে। প্রস্তাব অনুসারে, পিওন, বরকন্দাজ, রেকর্ড কিপার ও পাম্প অপারেটরের মতো পদে তাঁদের নিয়োগ করা যেতে পারে। এ ছাড়া চৌকিদার, নাইট গার্ড ও খালাসির মতো পদেও কাজের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দায়িত্বের ধরন অনুযায়ী অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে।

আরও পড়ুন : নবরাত্রির সূচনায় ‘রাম যুগ’এর আরম্ভ, দীপাবলির আগেই মুক্তি পাচ্ছে ‘রামায়ণ
কর্মীদের যাতায়াতের সুবিধার কথা মাথায় রেখে বাড়ির কাছে অথবা সহজে যাতায়াত করা যায়, এমন অফিসে তাঁদের পোস্টিং দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। চুক্তিভিত্তিক গ্রুপ-ডি কর্মীদের দক্ষতা যাচাই করে উপযুক্ত পদে কাজে লাগানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।














