বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সম্প্রতি বহু প্রতীক্ষিত বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) মামলার রায় সামনে এসেছে। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের (Government Employees) বকেয়া ডিএ–র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সেই হিসেবে বেশি নয়, ৩১ মার্চ অবধি সময় রয়েছে রাজ্য সরকারের হাতে। তার মধ্যে বকেয়া ডিএ-র ২৫% মিটিয়ে দিতে হবে। এই নিয়ে কি ফের রাজ্য সরকার শীর্ষ আদালতে যাচ্ছে? আপাতত পুনর্বিবেচনার জন্য সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার সম্ভাবনাই জোরালো হচ্ছে।
ডিএ ইস্যুতে ফের জট? Dearness Allowance
সূত্রের খবর, কোন যুক্তিতে রিভিউ পিটিশন দায়ের করা যায়, সেই বিষয়ে রাজ্য প্রশাসনের আধিকারিকরা আইনজ্ঞদের পরামর্শ নিচ্ছেন। হিসেব বলছে, মার্চ মাসের মধ্যে বকেয়ার ২৫ শতাংশ মেটানোর জন্য রাজ্যের চাই প্রায় ১০,৪০০ কোটি টাকা। কীভাবে রাজ্য এই বকেয়া মেটাবে, এই নিয়ে চর্চার মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের কাছে এই রায় পুনর্বিবেচনার বিষয় সামনে উঠে আসছে।
নবান্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, একাধিক যুক্তি নিয়ে সুপ্রিম দরজায় কড়া নাড়তে পারে রাজ্য। যেমন ২০০৯–এর ১ এপ্রিল থেকে ২০১৯–এর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারের প্রত্যেক কর্মচারীর বেতন কাঠামো ছিল ভিন্ন। জেলা থেকে সচিবালায়ে এই কর্মচারীরা একাধিক দপ্তরে কাজ করেছেন। প্রতি বছর তাঁদের ন্যূনতম তিন শতাংশ বেতন বৃদ্ধি হয়েছে। সেই অনুযায়ী মূল বেতন ও মহার্ঘ ভাতার পরিমাণও পরিবর্তন হয়েছে।
আরও যুক্তি, প্রতি বছর ডিএ একই হারে দেওয়া হয় না। সুতরাং সব মিলিয়ে এই বড় হিসেব–নিকেশের ক্ষেত্রে আরও সময় দরকার। আইনজ্ঞদের একাংশের মতে, রিভিউ পিটিশনের মাধ্যমে আপাতত কিছুটা সময় নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। তবে রিট পিটিশনে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বড় কোনও হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও যে খুব কম সেটাই মনে করা হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কারল এবং বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের বেঞ্চ, পঞ্চম পে কমিশনের আওতায় ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত জমে থাকা বকেয়া ডিএ-র সম্পূর্ণটা মিটিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছিল। এবার রাজ্য যদি রিভিউ পিটিশন করে তাহলে সেই বেঞ্চেই অর্থাৎ বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চের কাছেই তা যাবে।
আইনজ্ঞদের আরেকটা অংশের মতে, গত বছর ১৬ মে সুপ্রিম কোর্ট অন্তর্বর্তী রায়ে ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ অবিলম্বে মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশের বিরোধীতা করেও ছ’মাস সময় চেয়েছিল রাজ্য। তাই এখন চূড়ান্ত রায়ের পর আবার একই যুক্তিতে বাড়তি সময় চাইলে লাভের লাভ কিছু নাও হতে পারে। ধন্দে রয়েছে নবান্নও। এই পরিস্থিতিতে রিভিউ পিটিশন নাকি কিউরেটিভ পিটিশন করা হবে করতে হলে সেটা কত দিনের মধ্যে এবং কোনো লাভ হবে কি না এই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আবার বিবেচনা করা হচ্ছে বকেয়া ডিএ–র বাকি ৭৫ শতাংশ নিয়েও।

আরও পড়ুন: ‘আমি দেশের জন্যে…’, ২০২৭-এর ODI বিশ্বকাপে খেলার প্রসঙ্গে বড় প্রতিক্রিয়া রোহিতের, খুশি অনুরাগীরা
সামনেই বিধানসভা ভোট। সম্প্রতি ভোট-অন-অ্যাকাউন্ট বাজেটে একাধিক ঘোষণা করেছে রাজ্য। রাজ্য সরকারি কর্মীদের ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ৫০০ টাকা বৃদ্ধি সহ বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পে ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা হয়েছে একধাক্কায় খরচ বেড়েছে ২২,৭০০ কোটি টাকা। যা ১ এপ্রিল থেকে লাগু হবে। এই পরিস্থিতিতে যদি অবিলম্বে ২৫% মেটাতে হয় তাহলে কি নতুন করে ঋণ নিতে হবে? নাকি প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্প থাকবে বন্ধ? সেই নিয়েও চর্চা চলছে।












