বাংলাহান্ট ডেস্ক: জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় বড় পদক্ষেপ নিল বাংলাদেশ (Bangladesh) সরকার। আগামী ৫ এপ্রিল থেকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য সপ্তাহে দু’দিন ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজের নিয়ম চালু করা হচ্ছে। বাকি তিন দিন, রবিবার, সোমবার ও মঙ্গলবার খোলা থাকবে সরকারি দফতর। আর বুধবার ও বৃহস্পতিবার কর্মীরা বাড়ি থেকেই কাজ করবেন। দেশের সাপ্তাহিক ছুটি যথারীতি শুক্রবার ও শনিবারই থাকবে।
বাংলাদেশে (Bangladesh) সরকারি দফতরে চালু হচ্ছে ওয়ার্ক ফ্রম হোম
বুধবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যে তিন দিন অফিস খোলা থাকবে, সেদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কাজ চলবে। মূল লক্ষ্য দিনের আলোতেই কাজ সম্পন্ন করা, যাতে বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো যায়। তবে হাসপাতাল ও অন্যান্য জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না বলেও স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: যুদ্ধের কৌশলে পরিবর্তন! গুগল-মেটা-অ্যাপলের মতো মার্কিন সংস্থায় হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের
সূত্রের খবর, চলতি জ্বালানি সঙ্কটের প্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগেই শিক্ষাঙ্গনগুলিতে ভার্চুয়াল ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনিক স্তরেও বিদ্যুৎ খরচ কমানোর নানা উদ্যোগ দেখা গিয়েছে। এই বিষয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই উদ্যোগী ভূমিকা নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
সরকারি দফতরে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বার্তা দিতে নিজের দপ্তর থেকেই উদাহরণ তৈরি করেছেন তিনি। বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একাধিক আলো ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বন্ধ রাখা হয়েছে। এমনকি কর্মীদেরও অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। সম্প্রতি তিনি হঠাৎ কয়েকটি দফতরে গিয়ে জানালা খুলে দেন, যাতে প্রাকৃতিক আলোয় কাজ করা যা, এমন উদ্যোগও নজরে এসেছে।

আরও পড়ুন: অবাক কাণ্ড! চুরি হল ১২ টন কিটক্যাট, সন্ধানের জন্য অভিনব পদক্ষেপ নেসলের
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত পরিস্থিতির জেরে জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটায় এই সঙ্কট তৈরি হয়েছে। ইরান, মার্কিন এবং ইজরায়েলের সংঘাতের প্রভাব বিশ্ববাজারে পড়েছে, যার আঁচ লেগেছে বাংলাদেশেও (Bangladesh)। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অংশই জ্বালানি তেলের উপর নির্ভরশীল, পাশাপাশি সার কারখানাগুলিতেও বিপুল বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের চাহিদা কমানোই একমাত্র উপায় বলে মনে করছে সরকার, আর সেই কারণেই ওয়ার্ক ফ্রম হোম ও অফিস সময়সূচিতে এই বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে।












