বাংলা হান্ট ডেস্ক: বর্তমান সময়ে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য জুড়েই চরম অস্থিরতা বজায় রয়েছে। যার ফলে প্রভাবিত হচ্ছে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ। যদিও এই আবহেই গ্লোবাল রেটিং এজেন্সি মুডি’স ভারতের (India) সুভেরিন ক্রেডিট রেটিং Baa3-তে অপরিবর্তিত রেখেছে এবং এর আউটলুক স্থিতিশীল রেখেছে। সংস্থাটি মনে করেছে যে, করোনার মতো ভয়াবহ মহামারীর পরে ভারতের অর্থনীতি ক্রমান্বয়ে শক্তিশালী হয়েছে। শুধু তাই নয়, ভারতের গ্রোথের সম্ভাবনা অন্যান্য দেশের তুলনায় ভালো জায়গায় রয়েছে।
ভারতের (India) ওপর ভরসা রেখে কী জানাল Moody’s?
মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্কট ঝুঁকি বাড়াচ্ছে: তবে, মুডি’স সতর্ক করেছে যে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ভারতের অর্থনৈতিক গতিকে প্রভাবিত করতে পারে। সংস্থাটির মতে, ২০২৭ অর্থবর্ষে ভারতের GDP গ্রোথ ৭.৩ শতাংশ থেকে কমে প্রায় ৬ শতাংশ হতে পারে। মূলত, ক্রমবর্ধমান বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তার পরিবেশ বিনিয়োগ ও চাহিদার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা: এদিকে, রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে যে, আগামী বছরগুলিতে মুদ্রাস্ফীতিও বাড়তে পারে। ২০২৭ অর্থবর্ষে এটি প্রায় ৪.৮ শতাংশে পৌঁছনোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। যা এ বছরের ২.৪ শতাংশের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। মূলত, LPG সরবরাহে বিঘ্ন এবং জ্বালানি ও পরিবহণ খরচ বৃদ্ধির কারণে দামের ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
আরও পড়ুন: IPL-এর কারণেই ধ্বংস হয়েছে কেরিয়ার! চাঞ্চল্যকর প্রতিক্রিয়া ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়কের
রেমিটেন্স ও বাণিজ্যের ওপর প্রভাব: মুডি’সের মতে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারতে আসা রেমিটেন্সও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট বৈদেশিক রেমিটেন্সের প্রায় ৪০ শতাংশ এই অঞ্চল থেকে আসে। সেখানকার কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হলে ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদাও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। এছাড়া, এই অঞ্চলের বাণিজ্য প্রভাবিত হওয়ায় রফতানিও চাপের মুখে পড়তে পারে।
আরও পড়ুন: বৃষ্টির কারণে ভেস্তে গেল KKR-PBKS ম্যাচ! এক পয়েন্ট নিয়ে IPL ২০২৬-এ খাতা খুলল কলকাতা
পরিকাঠামো ও ডিজিটাইজেশনের ফলাফল: সংস্থাটি জানিয়েছে যে, পরিকাঠামোর উন্নয়ন, ডিজিটাইজেশন এবং ফাইনান্সিয়াল সেক্টরের উন্নতি থেকে ভারতের অর্থনীতি ক্রমাগত সহায়তা পাচ্ছে। এই কারণেই বিশ্বব্যাপী প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভারসাম্যপূর্ণ থাকে। এদিকে, মুডি’স জানিয়েছে যে ভারতের ঋণের পরিমাণ বেশি এবং মধ্যমেয়াদে তা GDP-র ৮০ শতাংশের ওপরে থাকতে পারে। ইতিমধ্যেই সরকার ২০২৭ অর্থবর্ষের জন্য রাজস্ব ঘাটতির লক্ষ্যমাত্রা ৪.৩ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। সংস্থাটির মতে, আর্থিক সংস্কার অব্যাহত থাকলে রেটিং-এর উন্নতি সম্ভব। কিন্তু যেকোনও ধরনের শৈথিল্য চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে।












