বাংলাহান্ট ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে ভারতীয় বায়ুসেনার আধুনিকীকরণ প্রকল্পে বড় সাফল্য মিলল। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (হ্যাল) সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘তেজস Mk1A’ (Tejas Mk1A) যুদ্ধবিমানের এয়ার-টু-এয়ার এবং এয়ার-টু-গ্রাউন্ড—দুই ধরনের অস্ত্রের ফায়ারিং ট্রায়াল সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দৃষ্টিসীমার বাইরে লক্ষ্যভেদ থেকে শুরু করে কাছাকাছি দূরত্বের যুদ্ধ—সব ক্ষেত্রেই বিমানটি প্রত্যাশিত ফল দিয়েছে বলে দাবি সংস্থার।
বায়ুসেনার কাছে কেন পৌঁছচ্ছে না তেজস Mk1A (Tejas Mk1A)?
সাম্প্রতিক পরীক্ষায় দৃষ্টিসীমার বাইরে আঘাত হানার সক্ষমতা যাচাই করা হয়। পাশাপাশি ক্লোজ কমব্যাট পরিস্থিতিতে ASRAAM ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতাও পরীক্ষা করা হয়েছে। মাটিতে নির্ভুল আঘাতের জন্য লেজার-নিয়ন্ত্রিত বোমার ট্রায়ালও সম্পন্ন হয়। হ্যাল জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের বকেয়া সফটওয়্যার আপডেট ও প্যাচের কাজ শেষ হওয়ায় তেজস Mk1A এখন ‘ফুল কনফিগারেশন’-এ পৌঁছেছে। প্রযুক্তিগত দিক থেকে এটি অপারেশনাল মানদণ্ড পূরণ করেছে বলেই দাবি করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:তারেক রহমানের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর! নির্বাচনের পর এবার কী পরিকল্পনা ইউনূসের?
তবে এই সাফল্যের পরেও ডেলিভারির পথে জট কাটেনি। বর্তমানে পাঁচটি Mk1A বিমান সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে এবং সরবরাহের অপেক্ষায়। আরও নয়টি বিমান নির্মিত হলেও ইঞ্জিন না থাকায় সেগুলি উড়তে পারছে না। সমস্যার মূল উৎস মার্কিন সংস্থা GE Aerospace-এর F404-IN20 ইঞ্জিন সরবরাহে বিলম্ব। এখনও পর্যন্ত মাত্র পাঁচটি ইঞ্জিন ভারতে পৌঁছেছে। বাকি ইঞ্জিনের ডেলিভারি কবে সম্পূর্ণ হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
অন্যদিকে অস্ত্র পরীক্ষায় সাফল্য পেলেই যে বিমান অবিলম্বে বায়ুসেনার হাতে তুলে দেওয়া যাবে, তা নয়। এর জন্য প্রয়োজন চূড়ান্ত সার্টিফিকেশন। Centre for Military Airworthiness & Certification (CMAC)-এর অনুমোদন না মিললে ভারতীয় বায়ুসেনা কোনও নতুন বিমান গ্রহণ করতে পারে না। সেই ছাড়পত্রের অপেক্ষাতেই আপাতত আটকে রয়েছে সরবরাহ প্রক্রিয়া।

আরও পড়ুন:বাংলাদেশের নির্বাচনে বঙ্গের সীমান্ত বরাবর জামাতের উত্থান! চিন্তা বাড়াবে ‘চিকেন’স নেক’?
তেজস Mk1A প্রকল্পকে ভারতীয় প্রতিরক্ষা আত্মনির্ভরতার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। উন্নত রাডার, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম এবং আধুনিক অস্ত্রসম্ভারসহ এই সংস্করণটি আগের মডেলের তুলনায় অনেক বেশি সক্ষম। কিন্তু ইঞ্জিন সরবরাহ ও সার্টিফিকেশন সংক্রান্ত বিলম্ব কাটিয়ে কবে তা পুরোপুরি স্কোয়াড্রনে অন্তর্ভুক্ত হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। প্রযুক্তিগত মাইলফলক ছোঁয়া সত্ত্বেও কার্যকর মোতায়েনের জন্য আরও কিছু প্রশাসনিক ও সরবরাহজনিত বাধা অতিক্রম করা প্রয়োজন।












