তারেক রহমানের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর! নির্বাচনের পর এবার কী পরিকল্পনা ইউনূসের?

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: বাংলাদেশে নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী বিএনপি। এখন প্রশ্ন তবে বাংলাদেশের অন্তর্বতী সরকারের প্রধান ইউনূসের (Mohammed Yunus) কি হবে? ঠিক এক মাস আগে রাজধানী ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’য় সাংবাদিক বৈঠক করে অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল, দায়িত্ব ছাড়ার পর জনজীবনের বাইরে সরে গিয়ে তিনটি নির্দিষ্ট সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচিতে মনোনিবেশ করবেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মহম্মদ ইউনূস। তাঁর উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানিয়েছিলেন, সক্রিয় রাজনীতি নয়, বরং উন্নয়নমূলক ভাবনায় সময় দেবেন তিনি। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—বিএনপি প্রধান তারেক রহমান-এর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরে সত্যিই কি ইউনূস ক্ষমতার বৃত্ত থেকে দূরে থাকবেন?

নির্বাচনের পর এবার কী পরিকল্পনা ইউনূসের (Mohammed Yunus)?

নির্বাচনে বিএনপি-র স্পষ্ট জয় দেশের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়েছে। এই আবহে ইউনূসের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের কারণে নতুন সরকারও তাঁর পরামর্শকে গুরুত্ব দিতে পারে। আবার অন্য একটি মহলের ধারণা, অতীতের রাজনৈতিক টানাপোড়েন তাঁকে সম্পূর্ণ অবসর নেওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফলে ‘বাণপ্রস্থ’-এর ঘোষণা আদৌ চূড়ান্ত কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের নির্বাচনে বঙ্গের সীমান্ত বরাবর জামাতের উত্থান! চিন্তা বাড়াবে ‘চিকেন’স নেক’?

ইউনূসের রাজনৈতিক যাত্রাপথ নিজেই এক জটিল ইতিহাস বহন করে। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তিনি ‘বাংলাদেশ সিটিজেনস কমিটি’ গড়ে পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মতামত সংগঠিত করেছিলেন। একসময় শেখ মুজিবুর রহমান-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত ছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনা-র সঙ্গেও তাঁর সুসম্পর্ক ছিল। ১৯৯৭ সালে ওয়াশিংটনে আয়োজিত মাইক্রোক্রেডিট সম্মেলনে তৎকালীন মার্কিন ফার্স্ট লেডি হিলারি ক্লিন্টন-এর সঙ্গে হাসিনাকে যুগ্ম সভাপতির দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে ইউনূস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্কের অবনতি ঘটে। গ্রামীণ ব্যাঙ্ক নিয়ে বিতর্ক, দুর্নীতির মামলা ও রাজনৈতিক সমালোচনা দুই পক্ষের দূরত্ব বাড়ায়।

ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে সেই মামলাগুলিই নতুন করে আলোচনায় এসেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা এড়াতে তিনি সাংবিধানিক কোনও ‘রক্ষাকবচ’ খুঁজতে পারেন। বর্তমান রাষ্ট্রপতি মহম্মদ শাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং ২০২৪ সালের পালাবদলের পর ইস্তফার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন। এই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতি পদকে ঘিরে জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে, যদিও ইউনূস নিজে এ বিষয়ে কোনও ইঙ্গিত দেননি।

What are Mohammed Yunus' plans after the election?

আরও পড়ুন: গ্রামের বাড়িতে থেকেই ১ কোটির ব্যবসা! অনলাইনে হালুয়া বিক্রি করে বাজিমাত অন্ধ্রের যুবতীর

অবসর-পরবর্তী পরিকল্পনায় ইউনূস যে তিনটি অগ্রাধিকারের কথা জানিয়েছিলেন, তার মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রসার, তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ এবং তাঁর ‘থ্রি জিরো’ তত্ত্বে নতুন গতি আনা। এই তত্ত্বের লক্ষ্য—শূন্য দারিদ্র, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ অর্জন। পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ও অপসারণ সমান রাখার ওপর জোর দেন তিনি। এখন দেখার, নির্বাচনের ফলাফলের পর ইউনূস সত্যিই উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেই সীমাবদ্ধ থাকেন, নাকি বাংলাদেশের বদলে যাওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আবারও সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায় তাঁকে।