বাংলাহান্ট ডেস্ক: অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমের কাছে এক প্রত্যন্ত গ্রামে বসবাসকারী পাওয়ানি মধুগলা প্রমাণ করে দিয়েছেন, সাফল্যের (Success Story) জন্য বড় পুঁজি বা কারখানা সব সময় জরুরি নয়। শুধুমাত্র অনলাইন বিক্রির মাধ্যমে তিনি গড়ে তুলেছেন প্রায় ১ কোটি টাকার ব্যবসা। তাঁর উদ্যোগ “পাওয়ানি ফুডস” প্রতিদিন ৮০ থেকে ১০০ কেজি ঐতিহ্যবাহী হালুয়া বিক্রি করছে। গুড়, গমের নির্যাস, দুধ ও জল দিয়ে তৈরি এই হালুয়ায় নেই চিনি, তেল বা কোনও প্রিজারভেটিভ। স্বাদ ও স্বাস্থ্যগুণের অনন্য সমন্বয়ই তাঁকে জনপ্রিয় বিক্রেতায় পরিণত করেছে।
পাওয়ানি ফুডস-এর অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
পাওয়ানি ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছাত্রী ছিলেন। তিনি কৃষিতে বি.এসসি. ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পুনের সিম্বিওসিস বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ করার সুযোগও পান। ভর্তি ফি জমা দেওয়ার পরও কোর্স শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ আগে তাঁর বিয়ে ঠিক হয়ে যায়। ২২ বছর বয়সে বিয়ের পর তিনি স্বামীর গ্রামে চলে যান, যা বিশাখাপত্তনম থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরে। দুর্গম এলাকা, দুর্বল পরিবহন ব্যবস্থা এবং মহিলাদের জন্য সীমিত কর্মসংস্থানের সুযোগ—সব মিলিয়ে তাঁর পেশাগত স্বপ্ন থমকে যায়।
আরও পড়ুন: বদলাল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ঠিকানা! সেবা তীর্থ থেকেই একাধিক বড় ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী মোদীর
বন্ধুদের কর্মজীবনে এগিয়ে যেতে দেখে নিজের পিছিয়ে পড়ার অনুভূতি তাঁকে নাড়া দিত। গ্রামীণ পরিবেশে নতুন উদ্যোগ শুরু করার মতো পরিকাঠামো না থাকায় তিনি বিকল্প পথ খুঁজতে থাকেন। শেষমেশ জীবিকা নির্বাহের উদ্দেশ্যে ইনস্টাগ্রামে কন্টেন্ট তৈরি শুরু করেন। কোনও সুস্পষ্ট ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ছাড়াই তিনি সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় হন। স্বামীর সমর্থন এবং বাবা-মায়ের উৎসাহ থাকলেও আত্মীয়স্বজনের কটূক্তি তাঁকে শুনতে হয়েছে। তবুও তিনি থেমে যাননি।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের গোড়ায় পোস্ট করা একটি সাধারণ ভিডিও তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। নিজের অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী চিনি ও তেলমুক্ত হালুয়া বানানোর প্রক্রিয়া তিনি শেয়ার করেন। দেশের অন্য প্রান্তে যেখানে চিনি ও তেল দিয়ে হালুয়া তৈরি হয়, সেখানে তাঁর স্বাস্থ্যকর সংস্করণ দ্রুতই নেটদুনিয়ায় সাড়া ফেলে। ভিডিওটি ভাইরাল হতেই অসংখ্য মানুষ অর্ডারের অনুরোধ জানান। প্রথমে দ্বিধায় থাকলেও অবশেষে এক মাসের জন্য অর্ডার নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

আরও পড়ুন: আরও নিরাপদ হবে ভারতের আকাশ! রাশিয়া থেকে কেনা হবে ৫ ইউনিট S-400, নেওয়া হল বড় সিদ্ধান্ত
প্রথম মাসেই তাঁর বিক্রি ছুঁয়ে যায় ১৮ লক্ষ টাকা। কোনও মূলধন বিনিয়োগ বা কারখানা ভাড়া ছাড়াই এই সাফল্য আসে। ধীরে ধীরে সেই ছোট উদ্যোগই আজ ১ কোটি টাকার ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে হাতিয়ার করে পাওয়ানি মধুগালা দেখিয়ে দিয়েছেন, উদ্ভাবনী ভাবনা ও অধ্যবসায় থাকলে সাফল্যের পথ তৈরি করা সম্ভব। তাঁর গল্প আজ বহু নারীর কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক।












