বাংলাহান্ট ডেস্ক: স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার বদলে গেল ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের (Prime Minister Office) ঠিকানা। এতদিন ঐতিহাসিক সাউথ ব্লক থেকেই কাজ চালাতেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পা রাখলেন নতুন দপ্তরে, যা সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের অধীনে তৈরি এগজিকিউটিভ এনক্লেভ-১-এর ‘সেবা তীর্থ-১’ ভবনে অবস্থিত। উদ্বোধনও করেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। সরকারের দাবি, আধুনিক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই পরিবর্তন ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।
বদলাল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ঠিকানা (Prime Minister Office)!
সেন্ট্রাল ভিস্তা পুনর্গঠন প্রকল্পের অংশ হিসেবেই তৈরি হয়েছে নতুন প্রশাসনিক কমপ্লেক্স। ‘সেবা তীর্থ-১’-এ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় স্থানান্তরিত হয়েছে, পাশেই ‘সেবা তীর্থ-২’-এ মন্ত্রিসভার সচিবালয় এবং ‘সেবা তীর্থ-৩’-এ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দপ্তর গড়ে উঠেছে। কর্তব্য পথ সংলগ্ন এই ভবনগুলি আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পরিবেশবান্ধব পরিকাঠামো নিয়ে নির্মিত। বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকগুলির দপ্তর থাকা সাউথ ও নর্থ ব্লক ভবন সংরক্ষণ করে ভবিষ্যতে ‘যুগ-যুগিন ভারত সংগ্রহালয়’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের নানা গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন প্রদর্শিত হবে।
আরও পড়ুন: আরও নিরাপদ হবে ভারতের আকাশ! রাশিয়া থেকে কেনা হবে ৫ ইউনিট S-400, নেওয়া হল বড় সিদ্ধান্ত
নতুন দপ্তরের উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী একাধিক বড় ঘোষণা করেন। ‘পিএম রাহত যোজনা’ প্রকল্পের অধীনে দুর্ঘটনায় আহতদের জন্য দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসা সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ‘লাখপতি দিদি’ কর্মসূচির লক্ষ্য ৩ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৬ কোটিতে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সরকারের মতে, নারীর আর্থিক স্বনির্ভরতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এই পদক্ষেপ তাৎপর্যপূর্ণ।
কৃষিক্ষেত্রেও বড়সড় আর্থিক বরাদ্দের ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। কৃষি পরিকাঠামো খাতে ১ লক্ষ কোটি টাকার বরাদ্দ দ্বিগুণ করে ২ লক্ষ কোটি টাকা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ‘স্টার্ট আপ ইন্ডিয়া’ উদ্যোগে প্রযুক্তিখাতে অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা বিকাশে গতি আনতেই এই আর্থিক সহায়তা।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে তারেক রহমান জিততেই ঘনিষ্ঠতার বার্তা পাকিস্তানের! কী জানাল চিন?
কেন্দ্রীয় সরকার দীর্ঘদিন ধরেই ঔপনিবেশিক মানসিকতার অবসান এবং প্রশাসনিক কাঠামোয় আধুনিকতার ছাপ আনার কথা বলছে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের মাস্টারপ্ল্যান তৈরি হয়। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর নতুন ভবনে স্থানান্তরিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এই স্থানান্তর সেই বৃহৎ রূপান্তর প্রক্রিয়ারই অংশ, যা দেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।












