বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম এক বছরকেই নিজের সরকারের জন্য ‘পরীক্ষার সময়’ হিসেবে দেখতে চান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। পুরুলিয়ার সভা থেকে সরাসরি সাধারণ মানুষের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, এখনই কোনও চূড়ান্ত বিচার নয়, তাঁকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হোক। এক বছর পর সেই কাজের খতিয়ান দেখে রাজ্যবাসীই নম্বর দেবেন। প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলে মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়ার কথাও প্রকাশ্যে জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
কেন সময় চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) ?
২০২৭ সালের ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর এক বছর পূর্ণ হবে। সেই সময়সীমার পর নিজের সরকারের কাজের মূল্যায়ন সাধারণ মানুষের হাতেই ছেড়ে দিতে চান তিনি। সভা থেকে তাঁর আবেদন, সরকারের উপর বিশ্বাস রাখুন এবং প্রয়োজনীয় সময় দিন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগামী ২০২৭ সালের ৯ মে আমার মুখ্যমন্ত্রিত্বের ১ বছর হবে। মুখ্যমন্ত্রিত্বের ১ বছর হলে আপনাদের সামনে পরীক্ষায় বসব। পরীক্ষায় আপনারা আমাকে নম্বর দেবেন। ১০-এর মধ্যে ৯ না পেলে ক্ষমা চেয়ে নেব। বলব পারলাম না। আপনারাই বলবেন ভুল লোককে ঠিক করিনি। সঠিক লোককে সঠিক দলকে এনেছি। বিশ্বাস-ভরসা রাখুন। সময় দিন।”
শুধু রাজ্যের প্রশাসনিক কাজ নয়, কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টিও এদিন তাঁর বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পায়। উন্নয়নমূলক প্রকল্প থেকে জনকল্যাণ—দুই সরকারের যৌথ উদ্যোগে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “কেন্দ্র-রাজ্য একসঙ্গে মিলে আপনাদের কল্যাণ করব। আমরা বদ্ধপরিকর।”
এদিন পুরুলিয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচি ছিল একাধিক। মানবাজারে গিয়ে একটি জলপ্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি। পরে রঘুনাথপুরে পৌঁছে প্রশাসনিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং একটি ইস্পাত কারখানার শিলান্যাস করেন। এই প্রকল্পকে ঘিরে জেলায় শিল্পের পরিধি বাড়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এই প্রকল্পে আনুমানিক ৫,০০০ মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে। পুরুলিয়াতেই দাঁড়িয়ে শিল্পায়ন নিয়ে তাঁর বার্তা, “শিল্পায়নের জন্য আমরা সবরকম সাহায্য করব, পুরুলিয়ায় দাঁড়িয়ে বললেন শুভেন্দু।”
তবে শিল্পের জন্য জমি সংগ্রহের ক্ষেত্রে আগের মতো জোর করে অধিগ্রহণের পথে সরকার যাবে না বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আমরা জোর করে শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করব না, আমরা ল্যান্ড পার্চেস পলিসি চালু করেছি। ল্যান্ড পুলিং পলিসি চালু করেছি। চাষিদের থেকে জমি নিয়ে ল্যান্ড ডেভলপমেন্টও চালু করব।”

আরও পড়ুন :আধার আপডেট এবার বাড়িতে! কারা পাবেন সুবিধা, কীভাবে করবেন বুকিং?
পুরুলিয়ার সভায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে তাই একদিকে ছিল রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার বার্তা, অন্যদিকে শিল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানোর রূপরেখা। এক বছরের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে তিনি কার্যত রাজ্যবাসীর কাছেই নিজের সরকারের কাজের চূড়ান্ত মূল্যায়নের দায়িত্ব তুলে দিলেন। এখন সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন কতটা হয় এবং এক বছর পর সাধারণ মানুষের দেওয়া ‘নম্বর’ কত দাঁড়ায়, সেটাই হতে চলেছে বড় প্রশ্ন।













