বাংলা হান্ট ডেস্ক : বঙ্গ রাজনীতিতে দুই শিবিরের পুরনো বিরোধের মধ্যেই সামনে এসেছে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের আলোচনা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সঙ্গে সিপিআইএমের (CPIM) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির যোগাযোগ এবং বিজেপি বিরোধী আন্দোলনে একসঙ্গে থাকার বার্তা ঘিরে তৈরি হয়েছে জল্পনা। তবে এই যোগাযোগকে ভোটের ময়দানে কোনও সমঝোতার ইঙ্গিত হিসেবে মানতে নারাজ সিপিআইএম নেতৃত্ব। তাদের বক্তব্য, নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ইস্যুতে আন্দোলনের স্বার্থেই এই যোগাযোগ।
মমতার (Mamata Banerjee) সাথে জোট বাঁধবে সিপিএম ?
সিপিআইএমের রাজ্য নেতৃত্বের কাছে বিষয়টি অস্বস্তির হয়ে উঠেছে। সেই জায়গা থেকেই দলের নেতাদের বারবার ব্যাখ্যা দিতে হচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এম এ বেবির কথাবার্তার সঙ্গে নির্বাচনী জোটের কোনও সম্পর্ক নেই। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীও প্রকাশ্যে তৃণমূলের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুজন চক্রবর্তী বলেন,”আমি জানি না। তৃণমূলের সঙ্গে সিপিএমের জোট নিয়ে আমাদের লোকেরা কেউ ভাবছেন না। আর যদি কেউ ভাবেন তাহলে তিনি বুঝতে পারবেন এরকম ভাববার কোনও কারণ নেই, আমাদের দলের কেউ তা ভাবছে না।”
কেন তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ, তার ব্যাখ্যাও আগেই দিয়েছিলেন সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, SIR এবং সাংবিধানিক কাঠামো রক্ষার মতো বিষয়কে সামনে রেখে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলাই ছিল উদ্দেশ্য। সেই কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে সামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। সেই সূত্রেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়েছে বলে সিপিআইএমের দাবি।
তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে মহম্মদ সেলিম বলেন, “কোনও প্রেমপত্র আদান-প্রদান হয়নি। আমি আবার বলছি, সিপিআইএম এবং বামপন্থী দলগুলির পক্ষ থেকে আমরা আলোচনা করেছি যে এসআইআর, ভোট, সাংবিধানিক কাঠামোকে রক্ষা করার জন্য বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে হবে। ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত আন্দোলনে গোটা দেশকে আহ্বান জানানো হয়েছে। সমস্ত দল যারা বিজেপি-র হাতে তামাক খায় না তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেই চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উৎসাহ দেখিয়েছেন। বেবিকে ফোন করে বলেছেন, আমরাও আছি। আমরা চাই সবাই রাস্তায় নামুক, আন্দোলন সংগ্রাম করুক। তার মানে একসঙ্গে ভোট করা নয়। একসঙ্গে যাওয়া, এগুলি বাড়তি কথা। যারা বিজেপি সঙ্গে গিয়েছিল, যারা বিজেপিকে ডেকে নিয়ে এসেছিল, তারাই এখন বলছে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে হবে।”

আরও পড়ুন :দুর্গাপুজোর ভুয়ো পাস বেচে কোটি কোটি টাকার কারবার? প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীলের বাড়িতে ED
সেলিমের বক্তব্যে স্পষ্ট, সিপিআইএমের তরফে এই যোগাযোগকে নির্বাচনী সমঝোতা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং নির্দিষ্ট দাবিতে আন্দোলনের পরিধি বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন দলের সঙ্গে সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে। বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। শ্রীরামপুরের একটি জনসভায় তিনি সিপিআইএমের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথাবার্তার প্রসঙ্গ টেনে জানান, “কে লাল- কে নীল দেখার এখন দেখার সময় নয়। বিজেপি বিরোধী জোটকে শক্তিশালী করাই লক্ষ্য।” এই যোগাযোগ ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।













