প্রতীক ফ্রিজ হতেই দলবদলের হিড়িক! তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে গেলেন প্রায় ১ হাজার কর্মী

Published on:

Published on:

1,000 Trinamool workers join Congress ahead of West Bengal by election
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : উপনির্বাচনের (West Bengal By Election) আগে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক তৃণমূল কর্মীর দলবদলকে ঘিরে চর্চা শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের দাবি, প্রায় এক হাজার তৃণমূল কর্মী এবার তাদের শিবিরে যোগ দিয়েছেন। ভোটের আগে এই যোগদানকে ঘিরে স্থানীয় সংগঠনে নতুন করে তৎপরতা তৈরি হয়েছে বলে দলীয় নেতৃত্বের দাবি। মেটিয়াবুরুজে আয়োজিত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, পশ্চিমবঙ্গের দলের পর্যবেক্ষক প্রকাশ জোশী এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা কংগ্রেস সভাপতি এমডি মোক্তার। তাঁদের উপস্থিতিতেই দলবদলকারীরা কংগ্রেসে যোগ দেন।

উপনির্বাচনের (West Bengal By Election) আগে তৃণমূল কর্মীদের কংগ্রেসের যোগ

প্রদেশ সভাপতির হাত থেকে দলের পতাকা গ্রহণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন দলে নাম লেখান তাঁরা। কর্মসূচির মঞ্চ থেকে অবশ্য শুধু দলবদল নিয়েই আলোচনা হয়নি। আসন্ন ভোট এবং রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তোলেন কংগ্রেস নেতারা। তাঁদের বক্তব্যের বড় অংশ জুড়ে ছিল নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের বিষয়টি।

মিলন প্রধানের প্রসঙ্গ টেনে শুভঙ্কর সরকার বলেন, “মিলন প্রধানের সঙ্গে বর্তমানে যা করা হচ্ছে, তা আসলে সরাসরি গণতন্ত্রের হত্যা। এরা ভোট চুরি করছে, এমনকি নির্বাচনী প্রতীক পর্যন্ত চুরি করছে।” একই সভায় মমতা তৃণমূলের কর্মী উপাসনার উপর হামলার প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী এবং সাধারণ মানুষকে নানা ভাবে হেনস্থার মুখে পড়তে হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “রাজ্যে সাধারণ মানুষ এবং বিরোধীদের ওপর যে অত্যাচার চলছে, জনগণ তা সবই প্রত্যক্ষ করছে। যারা অত্যাচার চালাচ্ছে তারা একদিন সরে যেতে বাধ্য হবে এবং মানুষ ভোটের বাক্সে এদের যোগ্য জবাব দেবে।”

এরপর মিলন প্রধানের রাজনৈতিক অতীত এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন প্রকাশ জোশী। নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনের সময় মিলন প্রধানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনের মুখে তাঁর জেলবন্দি থাকা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। জোশীর অভিযোগ, নন্দীগ্রামে মিলনের প্রভাব এবং মানুষের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে ভয় রয়েছে বলেই তাঁকে জেলে আটকে রাখা হয়েছে।

1,000 Trinamool workers join Congress ahead of West Bengal by election

আরও পড়ুন : ‘বিরোধীরা মিছিল করতে পারছে, এটাই বিজেপির গণতন্ত্র’, তৃণমূলের প্রতীক যেতেই কটাক্ষ শুভেন্দুর

প্রকাশ জোশীর আরও দাবি, ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য মিলনের উপর চাপ তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই চাপ মেনে না নেওয়ায় ষড়যন্ত্র করে তাঁকে জেলে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রার্থী জেলে থাকলেও নন্দীগ্রামের মানুষের সমর্থন মিলনের পাশেই রয়েছে। মেটিয়াবুরুজের এই কর্মসূচিকে সামনে রেখে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির দাবি করছে কংগ্রেস। বিপুল সংখ্যক কর্মীর যোগদান স্থানীয় স্তরে দলের সক্রিয়তা বাড়াবে বলেই নেতৃত্বের আশা।