বাংলা হান্ট ডেস্ক : জরুরি প্রয়োজনে পুলিশের (West Bengal Police) সাহায্য পেতে সাধারণ মানুষকে যাতে দ্রুত পরিষেবা দেওয়া যায়, সেই লক্ষ্যেই রাজ্যে চালু হল ১১২ নম্বরের জরুরি ব্যবস্থা। মহালয়ার দিন ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে এই পরিষেবার সূচনা করেন পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। একই অনুষ্ঠানে রাজ্যের পুলিশবাহিনীর জন্য ৪৫০টি নতুন গাড়ি যুক্ত হওয়ার কথাও জানান তিনি।
রাজ্যে চালু ১১২ নম্বর জরুরি পুলিশি পরিষেবা (West Bengal Police)
পুলিশের কাজের গতি বাড়াতে শুধু নতুন পরিষেবা চালু করাই নয়, কর্মীর সংখ্যাও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু। পুজোর আগেই ১১ হাজারেরও বেশি কনস্টেবল কাজে যোগ দিতে পারেন বলে তাঁর বক্তব্য। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওবিসি জটে আটকে ছিল পুলিশ নিয়োগ। আমি বিধানসভায় ডেকে আইন সংশোধন করেছি। রাজ্য সরকার যে মামলা করেছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছি। আইনে জিতে পুলিশ বোর্ডের চেয়ারম্যান নীরোজ সিং সন্ধে ৭টায় সিলেকটেড লিস্ট পাবলিশ করে দিয়েছেন। ১১ হাজারের বেশি নতুন কনস্টেবল পুজোর আগে নিযুক্তি পেতে চলেছেন।”
আগামী শুক্রবার নতুন কনস্টেবলদের হাতে নিজে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন পুলিশমন্ত্রী। বাহিনীর যাতায়াত ও দৈনন্দিন কাজের সুবিধার জন্য প্রতিটি থানায় একটি করে গাড়ি এবং মোটরবাইক দেওয়ার পরিকল্পনার পাশাপাশি ১,৫০০ জন চালক নিয়োগের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, জরুরি খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছনো এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানো।
এদিনের অনুষ্ঠানে রাজ্যের আগের পুলিশি ব্যবস্থার সমালোচনা করতেও ছাড়েননি শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, পর্যাপ্ত কর্মী ও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর অভাবে পুলিশকে নানা সমস্যার মধ্যে কাজ করতে হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর গত পাঁচ মাসে রাজ্যের বিভিন্ন পুলিশ কমিশনারেট, কন্ট্রোল রুম এবং ট্রাফিক ব্যবস্থা ঘুরে দেখেছেন বলে জানান তিনি। নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগে ১০০ নম্বরে ফোন করলে কোনও সাড়া পাওয়া যেত না। পুলিশ দপ্তরের মন্ত্রী হওয়ার পর ৫ মাস ধরে গোটা রাজ্যের পুলিশ সিস্টেমে ভিতরে ঢুকেছি। বারাকপুর কমিশনারেটে গেছি। তারাতলায় যাঁরা মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছি তাঁকে ‘জীবনরক্ষক সম্মান’ দিয়েছি। পুলিশ-দমকলকে সম্মান জানাতে ধন্যবাদজ্ঞাপন অনুষ্ঠানে গিয়েছি। পুলিশের সব কন্ট্রোল রুমে ঘুরেছি। গোটা রাজ্যের লাইভ ট্রাফিক সিস্টেম চালু করার কাজ করেছি। হিটকো, এনকেডিএ-কে অনুরোধ করে পুলিস বন্ধুদের রেনকোট তুলে দিয়েছি ভবানীভবনে।”

আরও পড়ুন : জেন জি-র মন জয়ে রাজ্যে চালু নেক্সট জেন পোস্ট অফিস! কী কী সুবিধা মিলবে জানুন
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, “বর্তমানে লাখ প্রতি পুলিশের সংখ্যা ১৫৫। যোগীরাজ্যে লাখে ২০০ পুলিশ। আগের সরকারের আমলে আমাদের রাজ্যে সেই সংখ্যা ছিল লাখ প্রতি ১০৫। ম্যানপাওয়ার না থাকলে, সিভিল স্ট্রং না থাকলে লড়াই করবেন কী করে?”এদিন রাজ্যের পুলিশি ব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় করার একাধিক পরিকল্পনা সামনে আনলেন শুভেন্দু অধিকারী।













