নাতির শোকে মর্মান্তিক পরিণতি! কেতনের মৃত্যুর ১৬ দিন পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত ঠাকুরদা

Published on:

Published on:

16 days after Ketan Agarwal murder case, his grandfather died.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: পুণের লোহাগড় দুর্গে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুট করতে গিয়ে কেতন আগরওয়ালের (Ketan Agarwal Murder Case) রহস্যমৃত্যুর ঘা এখনও দগদগে। কিন্তু এরই মধ্যে ফের একবার শোকের ছায়া নেমে  এল কেতনের পরিবারের ওপর। নাতির মৃত্যুর শোক কাটিয়ে উঠতে না পেরে প্রয়াত হলেন কেতনের ঠাকুরদা দেবীচাঁদ আগরওয়াল। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে আচমকা হৃদরোগে আক্রান্ত হন ৭১ বছরের দেবীচাঁদ। দ্রুত চিকিৎসার চেষ্টা করা হলেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। রাতেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরিবারের দাবি, নাতির অস্বাভাবিক মৃত্যু এবং সেই ঘটনার নেপথ্যের নৃশংসতা তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তিনি গভীর শোক ও উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। তাঁর শারীরিক অবস্থারও দ্রুত অবনতি হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত সেই শোকই যেন প্রাণ কেড়ে নিল পরিবারের প্রবীণ সদস্যের।

কেতনের (Ketan Agarwal Murder Case) মৃত্যুর ১৬ দিন পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত ঠাকুরদা:

উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন পুণের লোহাগড় দুর্গে বাগদত্তা সিয়া গোয়েলের সঙ্গে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটে গিয়েছিলেন কেতন আগরওয়াল (Ketan Agarwal Murder Case)। অভিযোগ, সেখানেই পাহাড়ের ধাক্কা দিয়ে তাঁকে নিচে ফেলে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় কেতনের। তদন্তে নেমে পুলিশ গ্রেপ্তার করে কেতনের বাগদত্তা সিয়া গোয়েল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরীকে। তদন্তকারীদের দাবি, এই হত্যাকাণ্ড ছিল পূর্বপরিকল্পিত। প্রায় এক মাস ধরে পরিকল্পনা করে কেতনকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষা হয়েছিল। ঘটনার পর থেকেই পরিবারের সদস্যরা ভেঙে পড়েন। বিশেষ করে দেবীচাঁদ আগরওয়াল নাতির মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি। আত্মীয়দের কথায়, তিনি প্রায়ই কেতনের কথা মনে করে কান্নায় ভেঙে পড়তেন এবং মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন।

আরও পড়ুন: গ্লোবাল পাসপোর্ট ইনডেক্স-এ পিছোল ভারত! তালিকায় কোথায় রয়েছে বাংলাদেশ-পাকিস্তান?

এদিকে কেতন হত্যাকাণ্ডের তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। সম্প্রতি তদন্তকারীদের হাতে এসেছে সিয়া গোয়েলের এক অজ্ঞাতপরিচয় বন্ধুর সঙ্গে কথোপকথনের একটি চ্যাট। ভাইরাল হওয়া সেই চ্যাটে দেখা যায়, সিয়া কিছুটা সাংকেতিক ভাষায় নিজের বন্ধুর সঙ্গে কথা বলছেন। একটি বার্তায় তিনি লিখেছেন, “বিয়ের জন্য বিমানের টিকিট কাটতে হবে। আধার কার্ডের ছবিটা পাঠিয়ে দিস। যদিও ওই বিয়ে কোনওদিন হবে না।” তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই কথোপকথন কেতনের মৃত্যুর প্রায় তিন সপ্তাহ আগে হয়েছিল। যদিও এখনও পর্যন্ত ওই চ্যাটের সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা হয়নি। তা সত্ত্বেও চ্যাটটি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ওই অজ্ঞাতপরিচয় বন্ধুর পরিচয় জানার জন্যও তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সিয়া ও কেতনের বাগদান সম্পন্ন হয়েছিল এবং আগামী নভেম্বরে তাঁদের বিয়ের দিনও ঠিক ছিল। পুলিশি জেরায় সিয়া জানিয়েছেন, প্রথমদিকে বিয়েতে সম্মতি দিলেও পরে তিনি আর এই সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে চাননি। সেই কথা কেতনকেও জানিয়েছিলেন। তবে তাঁর দাবি, পরিবারের প্রবল চাপের কারণে বিয়ে ভাঙার সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে পারেননি। তদন্তকারীদের অভিযোগ, সেই পরিস্থিতি থেকেই কেতনকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন সিয়া এবং এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তাঁকে সাহায্য করেন তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী। এই দুই অভিযুক্ত বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।

16 days after Ketan Agarwal murder case, his grandfather died.

আরও পড়ুন: কমবে পেট্রোল-ডিজেলের দাম? জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে মধ্যপ্রাচ্যে সফর বিদেশমন্ত্রীর

কেতন আগরওয়াল (Ketan Agarwal Murder Case) হত্যা মামলা এখন শুধু একটি খুনের তদন্তেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা একের পর এক নতুন প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। প্রেমের সম্পর্ক, পারিবারিক চাপ, পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র এবং ডিজিটাল প্রমাণ, সবকিছু মিলিয়ে মামলাটি ক্রমশ জটিল আকার নিচ্ছে। এর মধ্যেই নাতির মৃত্যুর শোক সহ্য করতে না পেরে দেবীচাঁদ আগরওয়ালের মৃত্যু গোটা পরিবারকে আরও গভীর শোকের মধ্যে ডুবিয়ে দিয়েছে। তদন্তকারীরা এখন ডিজিটাল চ্যাট, কল রেকর্ড, অভিযুক্তদের বয়ান এবং অন্যান্য ফরেনসিক প্রমাণ খতিয়ে দেখছেন। একই সঙ্গে সিয়ার অজ্ঞাতপরিচয় বন্ধুর ভূমিকা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই বহুচর্চিত হত্যাকাণ্ডে আরও নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলেই মনে করছে তদন্তকারী মহল।