কেরলেও হল পরিবর্তন! গত পাঁচ দশকে এই প্রথম দেশের কোনও রাজ্যে নেই বাম সরকার

Published on:

Published on:

1st time in the last 5 decades, there is no Left Front govt in any state of the country.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: দীর্ঘ পাঁচ দশকের এক রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান ঘটল দেশে। কেরলে পিনারাই বিজয়নের নেতৃত্বাধীন এলডিএফ সরকারের পতনের সঙ্গে সঙ্গেই ধসে পড়ল ভারতের শেষ বামদুর্গও (Left Front)। এর ফলে স্বাধীনতার পর প্রথমবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হল, যখন দেশের কোনও রাজ্যেই আর বামপন্থী সরকারের কোনও অস্তিত্বটুকুও রইল না। এমনকি কোনও রাজ্যে জোটসঙ্গী হিসেবেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব আর রাখতে পারল না বামেরা।

গত পাঁচ দশকে এই প্রথম দেশের কোনও রাজ্যে নেই বাম (Left Front) সরকার:

ভারতে বাম রাজনীতির সূচনা হয়েছিল ১৯৫৭ সালে কেরলে প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বাম সরকারের হাত ধরে। সেই সময় গোটা বিশ্বেই এটি ছিল একটি নজিরবিহীন ঘটনা। পরবর্তী সময়ে কেরলে নিয়মিত সরকার পরিবর্তনের ধারা তৈরি হলেও বামেদের প্রভাব কখনও পুরোপুরি মুছে যায়নি। অন্যদিকে, ১৯৭৭ সালে পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্টের উত্থান এবং ১৯৯৩ সালে ত্রিপুরায় ক্ষমতা দখল, এই তিন রাজ্যেই দীর্ঘদিন ধরে বাম রাজনীতির দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তোলে।

আরও পড়ুন: সরকারি কর্মচারীদের পোয়া বারো! ৪৫ দিনের মধ্যে আসছে সপ্তম পে কমিশন? আশায় সকলে

একসময় এমনও ছিল, যেখানে পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও কেরল তিন রাজ্যেই একসঙ্গে বাম সরকার ক্ষমতায় ছিল। ২০১১ সালে বাংলায় বাম সরকারের পতনের পরও ত্রিপুরা ও কেরলে তাদের অস্তিত্ব বজায় ছিল। তবে, ২০১৮ সালে ত্রিপুরাতেও ক্ষমতা হারানোর পর কেরলই ছিল শেষ আশ্রয়স্থল। সেখানে টানা দু’দফা ক্ষমতায় থেকে বামফ্রন্ট নিজেদের শক্তি ধরে রাখলেও ২০২৬ সালের নির্বাচনে সেই শেষ দুর্গও হারাতে হল বামেদের।

সাম্প্রতিক নির্বাচনে গত ৪মে কেরলে একতরফা ফলাফল দেখা গিয়েছে। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট প্রায় ৯০টির কাছাকাছি আসন দখল করেছে, যেখানে বাম জোটের আসন সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় চল্লিশের ঘরে। ফলে শুধু ক্ষমতা হারানো নয়, বিরোধী রাজনীতিতেও নিজেদের অবস্থান ধরে রাখা এখন বামেদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

1st time in the last 5 decades, there is no Left Front govt in any state of the country.

আরও পড়ুন: বিন্ধ্যাচলের বুক চিরে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘতম রেল টানেল! নয়া নজির ভারতীয় রেলের

আরও উদ্বেগের বিষয় হল, কেরলে বিজেপির ভোটের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়া। প্রায় ১১ শতাংশ ভোট পেয়ে তারা একাধিক আসনে নিজেদের উপস্থিতির জানান দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোটের একটি বড় অংশ এসেছে বামেদের (Left Front) পুরনো ভোটব্যাঙ্ক ভেঙেই। ঠিক যেমনটি আগে পশ্চিমবঙ্গে দেখা গিয়েছিল। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে বাম রাজনীতির সামনে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।