বিন্ধ্যাচলের বুক চিরে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘতম রেল টানেল! নয়া নজির ভারতীয় রেলের

Published on:

Published on:

Indian Railways launches a new initiative to improve India's connectivity.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করতে বড় পদক্ষেপ নিল ভারতীয় রেল (Indian Railways)। মধ্যপ্রদেশের বিন্ধ্যাচল পাহাড়ের বুক চিরে তৈরি হচ্ছে রাজ্যের দীর্ঘতম রেল টানেল, যা ইন্দোর-বুধনি রেল প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দেওয়াস জেলার কমলাপুরের কাছে এই সুরঙ্গ নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যেই দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে নির্মিত এই প্রকল্প রাজ্যের পরিবহণ ও শিল্পক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে নয়া উদ্যোগ ভারতীয় রেলের (Indian Railways)

এই প্রকল্পের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হল ৮.৬৪ কিলোমিটার দীর্ঘ টানেলটি। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, এই সুরঙ্গের উপর দিয়ে একটি ন্যাশনাল হাইওয়ে চলবে, আর তার নিচ দিয়ে পাহাড়ের গভীরে দ্রুতগতিতে ছুটবে ট্রেন। সাধারণত টানেলের ভিতরে ট্রেনের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়, কিন্তু উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োগে এখানে ট্রেন ঘণ্টায় প্রায় ১০০ কিলোমিটার বেগে চলতে পারবে। সুরঙ্গ নির্মাণে ব্যবহৃত হচ্ছে বিশেষ পলিমার ও পলিথিন স্তর, যা একে জলরোধী ও দীর্ঘস্থায়ী করে তুলবে।

আরও পড়ুন: নন্দীগ্রামের পর ভবানীপুরেও জয়! সার্টিফিকেট হাতে নিয়ে কাদের ধন্যবাদ জানালেন শুভেন্দু অধিকারী?

এই রেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ইন্দোর ও জব্বলপুরের মধ্যে দূরত্ব প্রায় ৬৮ কিলোমিটার কমে যাবে। ফলে যাত্রীদের যাত্রাপথে প্রায় ২ ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পণ্য পরিবহণেও গতি আসবে, যা শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যকলাপকে আরও শক্তিশালী করবে। প্রকল্পটির তদারকি করছে রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড, যারা কাজের গতি ও মান বজায় রাখতে একাধিক আধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগ করছে।

মোট ২০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেল প্রকল্পে নতুন করে ১৮টি রেলওয়ে স্টেশন তৈরি করা হবে। এছাড়াও নির্মাণ করা হচ্ছে ১৮টি বড় সেতু, ৯৯টি ছোট সেতু এবং ১৩৮টি আন্ডার ব্রিজ। গোটা প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩২৬১.৮২ কোটি টাকা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে এই প্রকল্প সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

Indian Railways launches a new initiative to improve India's connectivity.

আরও পড়ুন: নন্দীগ্রামের পর ভবানীপুরেও জয়! সার্টিফিকেট হাতে নিয়ে কাদের ধন্যবাদ জানালেন শুভেন্দু অধিকারী?

প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে মধ্যপ্রদেশের প্রধান শিল্পাঞ্চল যেমন ইন্দোর, ভোপাল, জব্বলপুর এবং গোয়ালিয়র সরাসরি রেলপথে সংযুক্ত হবে। এর ফলে শুধু যাত্রী পরিবহণ নয়, পণ্য পরিবহণও আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই টানেল ও রেল (Indian Railways) প্রকল্প ভবিষ্যতে মধ্যপ্রদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।