বাংলা হান্ট ডেস্ক : স্কুলে পড়াশোনা চলার সময় শিক্ষকদের দিয়ে সেন্সাসের কাজ করানো নিয়ে এবার সরব কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। Census 2027-এর দায়িত্ব পালনে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শিক্ষকদের ব্যস্ত রাখার সিদ্ধান্তে আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। শুধু স্কুলের কর্মদিবস নয়, ছুটির দিনেও শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের এই কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্ট।
সেন্সাসের কাজে শিক্ষকদের নিযুক্ত নিয়ে তোপ হাইকোর্টের (Calcutta High Court)
কেন্দ্রের অধীনে থাকা একটি প্রশাসনিক কাজের জন্য কেন রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের উপর এতটা নির্ভর করা হচ্ছে, রাজ্য সরকারের কাছে তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এদিন মামলার শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চ মূলত একটি বিষয়েই গুরুত্ব দিয়েছে—সেন্সাসের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেন স্কুলের স্বাভাবিক শিক্ষা ব্যবস্থা থমকে না যায়। সরকারি কাজের জন্য যদি কর্মীর প্রয়োজন হয়, তাহলে জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত, পুরসভা কিংবা বিধানসভা-সহ অন্য দফতরের কর্মীদের কেন কাজে লাগানো হচ্ছে না তাই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্টের বিচারপতি।
শিক্ষকদের মূল দায়িত্ব পড়ুয়াদের পড়ানো। তাঁদের সেই কাজ থেকে সরিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসনিক দায়িত্বে নিয়োজিত করার সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। এদিন মামলার শুনানিতে
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, অল্প সময়ের মধ্যে এত বড় পরিসরের সেন্সাসের কাজ শেষ করতে হলে যথেষ্ট প্রস্তুতি এবং প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। কিন্তু সেই জায়গায় প্রায় এক মাসের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
উল্লেখ্য, কতজন শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীকে ইতিমধ্যেই সেন্সাসের দায়িত্বে পাঠানো হয়েছে, তাঁদের অনুপস্থিতিতে কতগুলি স্কুলে পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে—এমন একাধিক তথ্য আদালত জানতে চেয়েছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব না হলে প্রয়োজনে অতিরিক্ত সময় নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।

আরও পড়ুন : ফাঁসির বদলে ইঞ্জেকশনের দাবি, মৃত্যুদণ্ড মামলায় কী বলল সুপ্রিম কোর্ট?
হাইকোর্টের বিচারপতির মতে, কেন্দ্র ও রাজ্য নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করুক যাতে একদিকে সেন্সাসের কাজ নির্দিষ্ট সময়ে এগোয়, অন্যদিকে স্কুলের পড়াশোনাতেও তার নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে সচল রাখার জন্য কী পদক্ষেপ করা হবে, সেই বিষয়ে রাজ্য সরকারকে হলফনামা দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার নির্দেশও দিয়েছে আদালত। এই মামলার পরবর্তী শুনানি বুধবার। আগামী শুনানিতে হাইকোর্ট এই বিষয়ে আরও কড়া কোনও নির্দেশ দেয় কি না, নজর থাকবে সেদিকেই।













