বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভারতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পদ্ধতি কি বদলাবে? ফাঁসির বদলে আরও কম কষ্টের কোনও পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া সম্ভব কি না, সেই প্রশ্নই উঠেছিল সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)। প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশন, গুলি কিংবা ইলেকট্রিক চেয়ারের মতো বিকল্প পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দাবি জানিয়ে আদালতে জনস্বার্থ মামলা হয়েছিল। সেই মামলাতেই এবার বড় সিদ্ধান্ত জানাল শীর্ষ আদালত।
কী দাবি ছিল মামলায়?
আইনজীবী ঋষি মালহোত্রা এই মামলা করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক এবং অমানবিক। তাই CrPC-র ৩৫৪(৫) ধারায় ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নিয়ম বাতিল করা হোক। পাশাপাশি সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুর অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদনও করা হয়।
মামলায় বলা হয়েছিল, ফাঁসির পর মৃত্যু নিশ্চিত হতে প্রায় ৪০ মিনিট সময় লাগতে পারে। সেখানে প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশন বা গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলে প্রায় ৫ মিনিটের মধ্যেই প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব। মামলাকারী রাষ্ট্রসংঘের একটি প্রস্তাবের কথাও তুলে ধরেছিলেন। সেখানে বলা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হলে যতটা সম্ভব কম যন্ত্রণা দেওয়া উচিত।
কী জানাল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)?
বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ এই জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দিয়েছে। আদালত (Supreme Court) স্পষ্ট জানিয়েছে, আপাতত ভারতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি হিসেবে ফাঁসিই থাকবে। এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আগের তিনটি রায় বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানোর আবেদনও খারিজ হয়েছে। অর্থাৎ এখনই ফাঁসির বদলে অন্য কোনও পদ্ধতি চালু হচ্ছে না।
তবে ভবিষ্যতের রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ করেনি আদালত। বেঞ্চ জানিয়েছে, পরে যদি বিকল্প পদ্ধতি নিয়ে শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক, চিকিৎসা সংক্রান্ত বা বাস্তব তথ্য সামনে আসে, তাহলে বিষয়টি আবার সাংবিধানিকভাবে খতিয়ে দেখা যেতে পারে। কেন্দ্র চাইলে এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটিও তৈরি করতে পারে।
আগে কী বলেছিল কেন্দ্র?
কেন্দ্রের হয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটরামানি আগেই আদালতকে জানিয়েছিলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে সরকার একটি কমিটি তৈরি করেছে। ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর শুনানির সময় কেন্দ্রের অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। তখন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ফাঁসি অথবা প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশনের মধ্যে কোনও একটি পদ্ধতি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যায় কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছিল।

আরও পড়ুনঃ ১৮ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস পালন করলেন সুকান্ত মজুমদার! কেন? জানুন অজানা ইতিহাস
কিন্তু কেন্দ্র হলফনামা দিয়ে জানিয়েছিল, এই ধরনের ব্যবস্থা বাস্তবে চালু করা সম্ভব নয়। সেই অবস্থানে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত বলেছিল, সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন আনার বিষয়ে কেন্দ্র আগ্রহী নয় বলেই মনে হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত এই মামলাটি খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। ফলে আপাতত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নিয়মে কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। ভারতে ফাঁসির মাধ্যমেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।













