বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ২০২৭ সালের জনগণনা প্রক্রিয়া (Census 2027) শুরু হয়ে গিয়েছে। সেলফ এনুমারেশনে (Self Enumeration) সারা দেশ শীর্ষ স্থান দখল করেছে পশ্চিমবঙ্গ। এবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাই শুরু হবে। ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্র দফতরের তরফে একটি প্রশ্নতালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সেগুলি জনগণনার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকরা সব পরিবারকে জিজ্ঞেস করবেন। এই আবহে অনেকের প্রশ্ন, জনগণনায় ভুল তথ্য দিলে কী হতে পারে? এবার এই নিয়ে সামনে এল বড় আপডেট।
জনগণনায় ভুল তথ্য দিলে কী কী শাস্তি হতে পারে? | (Census 2027)
জনগণনার সময় সংগৃহীত তথ্য দেশের জনসংখ্যা, আর্থ সামাজিক কাঠামো, জীবনযাত্রার অবস্থা বুঝতে সরকারকে সাহায্য করবে। সেই কারণে এই প্রক্রিয়ায় সঠিক তথ্য দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আদমশুমারি আইন ১৯৪৮ অনুযায়ী, অনুমোদিত আদমশুমারি কর্মকর্তার কাছে সঠিক তথ্য দেওয়া আইনগত বাধ্যবাধকতা।
আরও পড়ুনঃ এই ৫ কারণে বাতিল হতে পারে অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন! ৩ হাজার না পেলে অবশ্যই জানুন
১৯৪৮ সালের আদমশুমারি আইনের ৮ নম্বর ধারা অনুসারে, জনগণনার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের জিজ্ঞেস করা নির্দিষ্ট প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে হয়। কারণ এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য হল, নীতি নির্ধারণ ও জাতীয় পরিকল্পনার জন্য সরকার যাতে সঠিক তথ্য পায় সেটা নিশ্চিত করা। সেই কারণে এই তথ্যে যদি ভুল থাকে, তাহলে শিক্ষা, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য জনসেবা সম্পর্কিত বিষয়ের সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হতে পারে। তাই কোনও নাগরিক যদি ইচ্ছাকৃতভাবে জনগণনার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিককে বিভ্রান্ত করেন, তাহলে তা ছোটখাটো অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
এক্ষেত্রে বেশ কিছু শাস্তির বিধানও রয়েছে। জনগণনা আইনের ১১ নম্বর ধারা অনুসারে, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যে তথ্য দিলে, তথ্য লুকোলে অথবা জনগণনার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিককে তাঁর কাজে বাধা দিলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অপরাধভেদে সংশ্লিষ্ট আইনের অধীন সর্বাধিক তিন বছরের কারাদণ্ড/ সর্বাধিক হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় শাস্তির বিধান রয়েছে।
সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি জনগণনার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের ক্ষেত্রেও আইন প্রযোজ্য। কোনও গণনাকারী যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনও পরিবারের থেকে প্রাপ্ত সঠিক তথ্য পরিবর্তন করে ভুল তথ্য দেন, তাহলে আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি দুর্ব্যবহার, জনগণনার নিয়ম লঙ্ঘন বা দায়িত্ব পালনে রাজি না থাকলেও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

এছাড়া জানা গিয়েছে, জনগণনার প্রক্রিয়াকে অজুহাত করে কোনও আধিকারিক ভুল, অনুপযুক্ত বা অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পারেন না। তাঁদের এই অনুমতি নেই।
সব মিলিয়ে, জনগণনার তথ্য দেওয়ার সময় সাধারণ নাগরিকদের অত্যন্ত সচেতন থাকা উচিত। কোনও তথ্য না জানলে ভুল তথ্য দেওয়ার পরিবর্তে ‘জানি না’ বলে দেওয়া বেশি নিরাপদ। পাশাপাশি কাজের ক্ষেত্রে আধিকারিকদেরও সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।













