নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত! কোন খাতে এই প্রথম সরকারি চাকরি দিল রাজ্য সরকার?

Published on:

Published on:

West Bengal Government provided government jobs in this sector for the first time
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : পুরুলিয়ার জঙ্গলঘেরা এলাকায় বন্যপ্রাণীর সঙ্গে মানুষের সংঘাত নতুন নয়। এবার এই নিয়ে নয়া পরিকল্পনা নিল রাজ্য সরকার (West Bengal Government)। গত এক বছরে ওই এলাকায় শিয়ালের আনাগোনা এবং হামলার ঘটনা স্থানীয়দের উদ্বেগ অনেকটাই বাড়িয়েছে। বন দফতরের হিসাব অনুযায়ী, জেলার ঝালদা, কোটশিলা, বাঘমুণ্ডি থেকে কংসাবতী উত্তর বনবিভাগের রঘুনাথপুর ও কাশীপুর এলাকায় শিয়ালের আঁচড় ও কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। তাঁদের মধ্যে দুজন প্রাণ হারিয়েছেন।

এই খাতে নয়া উদ্যোগ রাজ্য সরকারের (West Bengal Government)

এই পরিস্থিতিতে শিয়ালের হামলায় মৃত এক মহিলার পরিবারকে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি পরিবারের একজনকে বন দফতরের কাজে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ঝালদা বনাঞ্চলের ইচাগের বাসিন্দা প্রমীলা রজক শিয়ালের কামড়ে মারা যান। তাঁর পরিবারকে এবার পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। প্রমীলার স্বামী দিলীপ রজকের হাতে সেই অর্থের চেক তুলে দিয়েছে পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো।

উল্লেখ্য, প্রমীলার ছেলে জিতেন্দ্র রজককে ঝালদা বনাঞ্চলে ফরেস্ট ভলান্টিয়ার পদে নিয়োগ করা হচ্ছে। মাসিক ১২ হাজার টাকা বেতনে ওই কাজ করবেন তিনি। বন দফতরের তরফে শীঘ্রই এই নিয়োগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে। জঙ্গল লাগোয়া গ্রামগুলির মানুষের কাছে শিয়ালের ভয় এখন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। রঘুনাথপুর-সাঁওতালডিহি শিল্পাঞ্চল হোক বা বাঘমুণ্ডি-ঝালদার বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকায় শিয়ালের ভয়ে কাঁটা হয়ে থাকেন বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সীমান্তের ওপারে ঝাড়খণ্ডের জঙ্গল থেকে গত প্রায় এক বছর ধরে বেঙ্গল ফক্সের চলাচল বেড়েছে। ফলে মানুষের বসতির কাছাকাছি শিয়ালের উপস্থিতিও আগের তুলনায় বেশি চোখে পড়ছে। পানীয় জল ও খাবারের মতো নিত্যদিনের সমস্যার সঙ্গে লড়াই করা জঙ্গলপাড়ের মানুষকে এখন বন্যপ্রাণীর হামলার আশঙ্কাও সামলাতে হচ্ছে।

West Bengal Government provided government jobs in this sector for the first time

আরও পড়ুন :যানজট মোকাবিলায় নয়া উদ্যোগ, বদলাচ্ছে বাংলার ট্রাফিক ব্যবস্থা

এই সমস্যা যে বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, আহতের সংখ্যাতেই তার প্রমাণ মিলছে। ফলে বন দফতর এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বিষয়টি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। রাজ্য বন দফতরের ইতিহাসে একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের সদস্যকে কর্মসংস্থানের এমন উদ্যোগকে নজিরবিহীন বলেই মনে করা হচ্ছে। ক্ষতিপূরণ ও চাকরি মিললেও, মানুষ ও বন্যপ্রাণীর এই বাড়তে থাকা সংঘাত কীভাবে কমানো যায়, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।