বাংলা হান্ট ডেস্ক : মহিষাদলের অদ্রিজা ক্লাবে পুজোর বাজেটে এসেছে বড়সড় পরিবর্তন। ক্লাবের মহিলা সদস্যরা অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) টাকার কিছু অংশ পুজোর বাজেটে দিয়েছেন। এক বছরের ব্যবধানে দুর্গাপুজোর বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ করেছে মহিলা পরিচালিত এই ক্লাব। গত বছর যেখানে খরচের পরিমাণ ছিল আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকার মধ্যে, এবার সেই অঙ্ক বেড়ে হয়েছে পাঁচ লক্ষ টাকা।
অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) টাকা হাতে পেয়ে বড় উদ্যোগ
পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলে দীর্ঘদিন ধরেই মহিলাদের উদ্যোগে পরিচালিত হয়ে আসছে অদ্রিজা ক্লাব। চলতি বছরের উৎসবকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছেন উদ্যোক্তারা। পুজোর বাজেট বৃদ্ধির নেপথ্যে ক্লাবের সদস্যদের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তনকেও একটি কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন উদ্যোক্তারা।
ক্লাবের উদ্যোক্তাদের মতে, ক্লাবের অধিকাংশ মহিলা সদস্য প্রান্তিক পরিবারের। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর তাঁদের অনেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাচ্ছেন। সেই প্রকল্পের মাধ্যমে হাতে আসা অর্থের একটি অংশ এবার নিজেদের পুজোয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সদস্যদের কয়েকজন। ক্লাবের সদস্যদের হিসাব অনুযায়ী, দুমাসে অন্নপূর্ণা যোজনার মাধ্যমে পাওয়া ৬ হাজার টাকা পুজোর কাজে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে শুধু সরকারি প্রকল্পের অর্থের উপর নির্ভর করে থাকছেন না ক্লাবের সদস্যরা। খুঁটিপুজো হয়ে যাওয়ার পর থেকেই চাঁদা সংগ্রহের কাজও শুরু করেছেন তাঁরা। এবার পাঁচ লক্ষ টাকার বাজেটে কীভাবে ক্লাবের আয়োজনকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা যায়, তা নিয়েই চলছে পরিকল্পনা। ক্লাবের সভাপতি নুপুর সামন্ত বলেন, “আমাদের ক্লাবের বেশিরভাগ সদস্য প্রান্তিক মহিলা। সরকারি প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা মহিলা পরিচালিত পুজোকে কিছুটা স্বনির্ভর হতে সাহায্য করেছে। সেই অর্থের একটি অংশ দিয়ে এবছর পুজোর আয়োজন আরও বড় করে করার সুযোগ পেয়েছি। এজন্য আমরা নতুন সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।”

আরও পড়ুন : স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন মধ্যবিত্তরা! বিশ্বকর্মা পুজোর দিন কমল সোনার দাম জানুন আজকের রেট
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা হাতে আসায় এবারের পুজো নিয়ে সদস্যদের উৎসাহ যে অনেকটাই বেড়েছে, তা জানিয়েছেন ক্লাবের সম্পাদক রেখা দাসও। অদ্রিজা ক্লাবে সম্পাদক রেখা দাস বলেন, “অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে টাকা পেয়ে আমরা এবারে খুব ভালো ভাবে পুজো করতে পারবো। গত বছর পুজোর বাজেট ছিল আড়াই থেকে তিন লাখ এ বছরে পূজোর বাজেট ৫ লক্ষ টাকা। নতুন সরকারকে ধন্যবাদ।” মহিলাদের উদ্যোগে বছরের পর বছর ধরে চলা এই পুজো এবার আর্থিক দিক থেকেও নতুন মাত্রা পেল। পাঁচ লক্ষ টাকার বাজেটকে কাজে লাগিয়ে প্রতিমা থেকে মণ্ডপসজ্জা, আলোকসজ্জা থেকে সামগ্রিক আয়োজন—সবকিছুকেই আরও আকর্ষণীয় করে তোলার লক্ষ্য নিয়েছেন উদ্যোক্তারা।













