বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) একাধিক জেলায় সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার দায় স্বীকার করেছে বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। শনিবার থেকে বালোচিস্তান প্রদেশ জুড়ে ধারাবাহিক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে বিভিন্ন এলাকা। রবিবার একটি বিবৃতি ও ছবি প্রকাশ করে বিএলএ জানায়, এই হামলাগুলির নেপথ্যে তাদের সংগঠনের দুই নারী আত্মঘাতী যোদ্ধা রয়েছেন। এর আগে বিএলএ দাবি করেছিল, তাদের তথাকথিত ‘সশস্ত্র সংগ্রামে’ একাধিক নারী যোদ্ধা যোগ দিয়েছেন। এবার সেই দাবির সপক্ষে ছবি ও ভিডিয়ো প্রকাশ করল সংগঠনটি।
২ তরুণীর কারণেই ঘুম উড়ল পাকিস্তানের (Pakistan)
বিএলএ-র প্রকাশিত ছবিতে যাঁদের দেখা গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে একজনের নাম আসিফা মেঙ্গাল, বয়স ২৪ বছর। দ্বিতীয় হামলাকারীর ছবিও প্রকাশ করা হলেও তাঁর নাম জানানো হয়নি। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফও স্বীকার করেছেন যে সাম্প্রতিক হামলাগুলিতে দুই তরুণী জড়িত ছিলেন। শনিবার নুশকি, কোয়েটা-সহ বিভিন্ন এলাকায় হওয়া বিস্ফোরণের পরে এই বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তানের নিরাপত্তা মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
বিএলএ-র বিবৃতি অনুযায়ী, আসিফা মেঙ্গালের জন্ম ২০০২ সালের ২ অক্টোবর এবং তিনি বালোচিস্তানের নুশকি এলাকার বাসিন্দা। ২১ বছরে পা দেওয়ার দিনই তিনি বিএলএ-র মজিদ ব্রিগেডে যোগ দেন বলে দাবি করা হয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে আসিফা আত্মঘাতী হামলায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শনিবার নুশকিতে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর দফতরে যে হামলা চালানো হয়েছিল, তাতে আসিফাই যুক্ত ছিলেন বলে বিএলএ দাবি করেছে।
অন্য এক তরুণী হামলাকারীর একটি ভিডিয়োও প্রকাশ করেছে বিএলএ। সেই ভিডিয়োতে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় ক্ষোভ উগরে দিতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। আরেকটি ভিডিয়োতে বন্দুক হাতে এক নারী যোদ্ধাকে বলতে শোনা যায়, পাকিস্তান সরকার বালোচ জনগোষ্ঠীর নারী ও পরিবারগুলিকে দমন করতে বলপ্রয়োগের পথ বেছে নিচ্ছে এবং সরাসরি মোকাবিলা করার সাহস তাদের নেই। এই বক্তব্যের মাধ্যমে বিএলএ তাদের সশস্ত্র আন্দোলনকে আরও জোরালো করার বার্তা দিতে চেয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

আরও পড়ুন: সিগন্যাল অমান্য না করেও পেয়েছেন e-Challan? বাড়িতে বসেই কীভাবে জানাবেন অভিযোগ?
দীর্ঘদিন ধরেই বালোচিস্তানে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ নিয়ে চাপে রয়েছে পাকিস্তান সরকার। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে বিএলএ ধাপে ধাপে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সংগঠনের দাবি অনুযায়ী, কোয়েটা, নুশকি, মাসটাং, ডালবান্দিন, খারান, পাঞ্জগুর, গদর এবং পাসনি—একাধিক জেলায় একযোগে হামলা চালানো হয়েছে। যদিও এই হামলার নেপথ্যে ভারতের মদত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে ইসলামাবাদ। তবে নয়াদিল্লি পাকিস্তানের এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দিয়েছে।












