বাংলা হান্ট ডেস্ক: উপসাগরীয় যুদ্ধের আবহে এবার একটি বড় আপডেট সামনে এসেছে। মূলত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (United Arab Emirates) থেকে ২,০০০ পাকিস্তানিকে জোরপূর্বক বহিষ্কার করা হল। শুধু তাই নয়, ওই পাকিস্তানিদের অর্থ ও জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত করার খবরও পাওয়া গেছে। এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর এই পদক্ষেপ পাকিস্তানে রাজনৈতিক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই ইস্যুতে বিরোধী দল সংসদে সরকারের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তোলে। যার পরে শাহবাজ শরীফের সরকার পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির মাধ্যমে তদন্তের ঘোষণা করে। জানিয়ে রাখি যে, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। যার কারণ হল সৌদি আরবের প্রতি পাকিস্তানের প্রকাশ্য সমর্থন।
দুবাই-আবুধাবি (United Arab Emirates) থেকে বহিষ্কৃত ২,০০০ পাকিস্তানি:
ডন পত্রিকার মতে, সংসদের কার্যক্রম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিরোধী দলের সাংসদরা সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে ২,০০০ পাকিস্তানিকে বহিষ্কারের বিষয়টি উত্থাপন করেন। তাঁরা দাবি করেন, ওই পাকিস্তানিরা পূর্বে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর দ্বারা নৃশংসতার শিকার হয়েছিলেন। এরপর তাঁদের জিনিসপত্র ও টাকা বাজেয়াপ্ত করে ফেরত পাঠানো হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে পাকিস্তানিদের কেন বহিষ্কার করা হচ্ছে: পাকিস্তান সরকারের মতে, গত ৫ বছরে আরব দেশগুলি থেকে ১ লক্ষ ৬৪ হাজার পাকিস্তানিকে জোরপূর্বক বহিষ্কার করা হয়েছে। সৌদি আরব থেকে প্রায় ১ লক্ষ পাকিস্তানিকে এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে প্রায় ৬৪ হাজার পাকিস্তানিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এদিকে, পাকিস্তান সরকারের বিদেশ দফতর সংসদে জানিয়েছে যে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে যাঁদেরকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ ছিল। এমনকি, তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে ভিক্ষা করতে গিয়েছিলেন এবং সেই কারণে তাঁদেরকে বহিষ্কার করা হয়। এখনও পর্যন্ত ২০ লক্ষ পাকিস্তানি সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে কর্মরত আছেন বলেও জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন: আর বাড়বে না পেট্রোল-ডিজেলের দাম? মধ্যপ্রাচ্যে সঙ্কটের আবহেই বাজিমাত করলেন মুকেশ আম্বানি
এদিকে, নিউ ইয়র্ক টাইমস ৮ মে তারিখে এক রিপোর্টে জানায় যে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে কর্মরত পাকিস্তানের শিয়া সম্প্রদায়ের সদস্যদের আবুধাবি থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে। মূলত, গুপ্তচরবৃত্তির আশঙ্কায় সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এই পদক্ষেপ নিচ্ছে। উল্লেখ্য যে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে ২০ লক্ষ পাকিস্তানি শ্রমিক কর্মরত আছেন। যাঁরা প্রতি বছর ইসলামাবাদে ৮০০ কোটি ডলার পাঠান। এটি পাকিস্তানের উন্নয়নে গতি সঞ্চার করছে। তবে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী পাকিস্তানি কর্মী সংখ্যা কমাতে চায়।
আরও পড়ুন: ভারতসেরা ইস্টবেঙ্গল! অথচ, প্রিয় দলের সাফল্যের সাক্ষী হতে পারলেন না রাহুল, আক্ষেপ অনুরাগীদের
সংযুক্ত আরব আমিরশাহী পাকিস্তানের ওপর কেন ক্ষুব্ধ: জানিয়ে রাখি যে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীকে পূর্বে পাকিস্তানের মিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হত। কিন্তু ইরান যুদ্ধের বিষয়ে পাকিস্তানের অবস্থান তাদের সম্পর্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ২ টি কারণে পাকিস্তানের ওপর ক্ষুব্ধ। প্রথমত, পাকিস্তান যুদ্ধের সময়ে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা প্রদান করেছিল, অথচ সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর পক্ষে কোনও অবস্থান নেয়নি। দ্বিতীয় কারণটি হল, পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা। পাকিস্তান যখন যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা শুরু করে, তখন তারা সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। এতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ক্ষুব্ধ হয় এবং অবিলম্বে পাকিস্তানের কাছে ঋণ পরিশোধের দাবি জানায়। এমতাবস্থায়, পরিস্থিতি সামাল দিতে পাকিস্তান এখন সৌদি আরবের সহায়তায় সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর ঋণ পরিশোধ করেছে।













