বাংলা হান্ট ডেস্ক: যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবং ক্রমবর্ধমান যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে একের পর এক বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে ভারতীয় রেল। এই আবহেই ভারতীয় রেল এবার বন্দে ভারত স্লিপার (Vande Bharat Sleeper) ট্রেনের মাধ্যমে দূরপাল্লার রাতের সফরকে আরও দ্রুত, আরামদায়ক এবং আধুনিক করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে এই ট্রেনটি (Indian Railways) রাজধানী এক্সপ্রেসকেও (Rajdhani Express) ছাড়িয়ে যাবে। রেলের বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৬০ টি বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনসেট তৈরি করা হবে। এর ফলে আগামী সময়ে যাত্রীরা একাধিক দূরপাল্লার রুটে নতুন স্লিপার ট্রেনের সুবিধা পেতে পারেন। ইতিমধ্যেই চলতি বছরের শুরুতে গুয়াহাটি-হাওড়া রুটে বন্দে ভারতের প্রথম স্লিপার ট্রেন পরিষেবা শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় জোড়া স্লিপার ট্রেন বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে চলছে। এরপর সেগুলি যাত্রী পরিষেবায় চালু করা হতে পারে। কিছু রিপোর্টে বেঙ্গালুরু-মুম্বাই রুটকে একটি সম্ভাব্য পথ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও ভারতীয় রেল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এটি নিশ্চিত করেনি।
তৈরি হচ্ছে ২৬০ টি বন্দে ভারত স্লিপার (Vande Bharat Sleeper):
২৬০ টি বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের পরিকল্পনা: জানিয়ে রাখি যে, বন্দে ভারত স্লিপার প্রকল্পটি বৃহৎ পরিসরের উৎপাদন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। বিভিন্ন কোম্পানি যৌথভাবে মোট ২৬০ টি ট্রেনসেট তৈরি করবে। যার মধ্যে কিনেট রেলওয়ে সলিউশনস ১২০ টি ট্রেনসেট তৈরি করবে। এছাড়াও, টিটাগড়-BHEL জয়েন্ট ভেঞ্চার ৮০টি ট্রেনসেট তৈরি করতে চলেছে। এর পাশাপাশি, চেন্নাইয়ে স্থিত ICF ৫০ টি এবং BEML ১০ টি বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনসেট তৈরি করবে।

ডিজাইন স্পিড ১৮০ কিমি/ঘণ্টা: উল্লেখ্য যে, এই ট্রেনটির ডিজাইন স্পিড ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটার। তবে পথ ও ট্র্যাকের পরিকাঠামোর ওপর নির্ভর করে এটি ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার গতিতে চলবে। প্রচলিত ট্রেনের মতো এতে কোনও আলাদা ইঞ্জিন নেই। শক্তি পুরো ট্রেনসেট জুড়ে বণ্টিত থাকে। ফলে এটি দ্রুত গতি বাড়াতে ও কমাতে পারে। এতে সফরের সময় কমে আসবে।
আরও পড়ুন: আগে থেকেই রয়েছে ভারতের কাছে! এবার চিনের এই পড়শি দেশ কিনতে পারে রাফাল জেট
বিভিন্ন আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে: জানিয়ে রাখি যে, যাত্রীদের সুবিধার জন্য বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন বিভিন্ন আধুনিক বৈশিষ্ট্য দিয়ে সজ্জিত। এর মধ্যে রয়েছে নাইট লাইটিং থেকে শুরু করে ইন্টিগ্রেটেড অ্যানাউন্সমেন্ট সিস্টেম, মেসেঞ্জার ইনফরমেশন ডিসপ্লে, রিডিং লাইট, চার্জিং পয়েন্ট এবং CCTV নজরদারি। এছাড়াও রয়েছে, এয়ারক্রাফট স্টাইল বায়ো-ভ্যাকুয়াম টয়লেট কুশনযুক্ত বার্থ এবং ৯পরের বার্থে সহজে প্রবেশের সুবিধা। এসি ফার্স্ট ক্লাস কোচগুলিতে যাত্রীদের জন্য শাওয়ার এবং গরম জলের ব্যবস্থা রয়েছে। এর পাশাপাশি প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা শৌচাগার এবং সুগম প্রবেশের ব্যবস্থা আছে। নিরাপত্তার জন্য, এই ট্রেনগুলিতে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি কবচ (স্বয়ংক্রিয় ট্রেন সুরক্ষা ব্যবস্থা) স্থাপন করা হয়েছে। এই ব্যবস্থার লক্ষ্য হল সংঘর্ষের ঝুঁকি কমানো এবং ট্রেনের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা।
আরও পড়ুন: বাড়ছে চিকেনস নেকের সুরক্ষা! শিলিগুড়ি করিডোরের জন্য ২,০৭৭ কোটি টাকার প্রকল্পের অনুমোদন গড়করির
এই ট্রেনগুলি কবে থেকে চলাচল শুরু করবে: গুয়াহাটি-হাওড়া রুটে প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন চালু হওয়ার পর, দ্বিতীয় ট্রেনের পরীক্ষামূলক চলাচল চলছে (বেঙ্গালুরু-মুম্বাই রুটটি একটি সম্ভাব্য বিকল্প হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে)। উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আগামী বছরগুলিতে দেশজুড়ে প্রধান রাজধানী এবং দূরপাল্লার রুটগুলিতে এই ট্রেনগুলি পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে। এই অতিরিক্ত বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনগুলির চালু হওয়া নির্ভর করবে প্রোটোটাইপ তৈরি, ট্রায়াল, সার্টিফিকেশান এবং সংশ্লিষ্ট রুটগুলি প্রস্তুত করার কাজ সম্পন্ন হওয়ার ওপর।













