বাংলাহান্ট ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে অচল হয়ে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। বিশ্বে রপ্তানিকৃত তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশই পরিবাহিত হয় ওমান ও ইরানের মাঝের এই সংকীর্ণ প্রণালী দিয়ে। এই প্রণালী বন্ধ থাকায় কার্যত থমকে গিয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য। আমদানি-রফতানিতে বড়সড় প্রভাব পড়ছে ভারতের উপরেও। বিশেষ করে চাল-সহ একাধিক কৃষিপণ্য রপ্তানিতেও ধাক্কা লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যার জেরে হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
হরমুজ প্রণালীতে (Strait of Hormuz) আটকে ৩৮ টি ভারতীয় জাহাজ:
সূত্রের খবর, হরমুজ প্রণালী ও সংলগ্ন এলাকায় অন্তত ৩৮টি ভারতীয় জাহাজ আটকে রয়েছে। প্রায় ১১০০ নাবিকের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইতিমধ্যেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জাহাজে কর্মরত তিন ভারতীয়ের মৃত্যু হয়েছে, গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আরও একজন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল জরুরি বৈঠক করেছেন জাহাজ মন্ত্রকের আধিকারিকদের সঙ্গে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ডিজি শিপিং-এর কর্তারা। পরে প্রধানমন্ত্রীর দফতরেও এই সংক্রান্ত বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: মধ্যমগ্রাম স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ আগুন, একাধিক দোকান পুড়ে ছাই
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক জলপথ অচল থাকায় ভারতের বিভিন্ন বন্দরে কনটেনার জাহাজের ভিড় উপচে পড়ছে। জাহাজ মন্ত্রকের হিসাবে, হাজারের বেশি কনটেনার শিপ বিভিন্ন বন্দরে অপেক্ষমাণ। আমদানি-রফতানির শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ায় ব্যবসায়িক চাপে পড়েছে একাধিক ক্ষেত্র। ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল শিপওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, আটকে থাকা পণ্যের আর্থিক মূল্য ১০,০০০ কোটি টাকারও বেশি হতে পারে। পাশাপাশি যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্যের জলপথে বিভিন্ন জাহাজে প্রায় ২৩ হাজার ভারতীয় নাবিক ও কর্মীরা আটকে রয়েছেন বলে অনুমান।
ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তাও বড় প্রশ্নের মুখে। দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এবং ৫০ শতাংশের বেশি এলএনজি এই পথ দিয়েই আমদানি হয়। ফলে সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হলে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম খুলেছে নয়া দিল্লি, যেখানে তেলের মজুত ও সরবরাহ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: স্বাদ ও স্বাস্থ্যের নিখুঁত মেলবন্ধন, সজনে ফুল দিয়ে বানিয়ে ফেলুন মা-ঠাকুমাদের হাতের বাটিচচ্চড়ি
নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সরকার পৃথক কন্ট্রোল রুম চালু করেছে, যা সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। হেল্পলাইন নম্বরও দেওয়া হয়েছে ১৮০০১১৮৭৯৭, পাশাপাশি ৯১-১১-২৩০১২১১৩, ৯১-১১-২৩০১৪১০৪ এবং ৯১-১১-২৩০১৭৯০৫ নম্বরে যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বাহরিন, ইরান, ইরাক, ইজরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহী-সহ বিভিন্ন দেশে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসগুলির সঙ্গেও সরাসরি যোগাযোগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে ভারতের বাণিজ্য ও জ্বালানি খাতে গভীর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।












