ভোটের আবহে বঙ্গে উদ্ধার ৪৮ লক্ষ লিটার মদ! বাজেয়াপ্ত মাদক-ড্রাগসও, কী জানাল কমিশন?

Published on:

Published on:

4.8 million liters of liquor recovered in West Bengal Assembly Election.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : ভোটের মরসুম (West Bengal Assembly Election) এলেই বাংলার রাজনৈতিক আবহে বাড়ে উত্তাপ, সঙ্গে বাড়ে নজরদারিও। নির্বাচনকে ঘিরে বেআইনি অর্থ, মদ বা প্রলোভনের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ নতুন নয়। সেই প্রেক্ষাপটেই এবারের ভোটে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission),যাতে গোটা প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখা যায়।

ভোটের আবহে (West Bengal Assembly Election) বাজেয়াপ্ত মদ:

ভোট নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ রাখার লক্ষ্যে ‘অপারেশন ক্লিন’ নামে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে কমিশন। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে টানা তল্লাশি, নাকা চেকিং এবং ব্লক স্তরে নজরদারির জেরে ইতিমধ্যেই বিপুল পরিমাণ অবৈধ সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, বাজেয়াপ্ত হওয়া সামগ্রীর মোট মূল্য ৫১০ কোটিরও বেশি। এই উদ্ধার হওয়া জিনিসগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি উদ্ধার হয়েছে মদ।

কমিশন এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছে, রাজ্যজুড়ে ৪৮ লক্ষ ৪৬ হাজার ১৮৩ লিটার মদ উদ্ধার করেছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১২৬.৮৫ কোটি টাকা। এর পাশাপাশি প্রায় ১১০.১২ কোটি টাকার ড্রাগস বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নগদ অর্থ হিসেবে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকা। এছাড়াও সোনা-রুপোর মতো মূল্যবান ধাতু উদ্ধারের পরিমাণ প্রায় ৫৮.২৮ কোটি টাকা। ভোটারদের প্রভাবিত করতে ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন ফ্রিবিজ বা উপহার সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে প্রায় ১৮৪.৮৫ কোটি টাকার। সব মিলিয়ে মোট অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ৫১০.১০ কোটি টাকা।

কাল, বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। এর মাঝেই এই বিপুল পরিমাণ উদ্ধার অভিযানকে ঘিরে প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে। ‘হিংসামুক্ত’ ও ‘প্রলোভনমুক্ত’ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই কমিশনের এই কড়া পদক্ষেপ। দ্বিতীয় দফার ভোটে মোতায়েন থাকছে ২ হাজার ৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী।

4.8 million liters of liquor recovered in West Bengal Assembly Election

আরও পড়ুন : ভোটের দিন বন্ধ হবে চপ-মুড়ি-বিরিয়ানি বিলি! চলবে না আড্ডাও, কড়া পদক্ষেপ কমিশনের

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল এই প্রসঙ্গে বলেন, “প্রথম দফার ভোট শান্তিপূর্ণ হয়েছে। আমরা আশা করছি দ্বিতীয় দফাতেও মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন। প্রথম দফার থেকেও বেশি ভোট পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবার।” কঠোর নজরদারি ও লাগাতার অভিযানের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—ভোট প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের বেআইনি প্রভাব বরদাস্ত করা হবে না।