বাংলা হান্ট ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীরের (Jammu and Kashmir) পুঞ্চে নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ভারতে (India) অনুপ্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে মৃত্যু হল চার জঙ্গির। নিহতদের মধ্যে লস্কর-ই-তৈবার (Lashkar-e-Taiba)শীর্ষ কম্যান্ডার মহম্মদ ফৈজানও রয়েছে বলে সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে। রবিবার পুঞ্চ জেলার কৃষ্ণা ঘাঁটি সেক্টরে এই ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, এক দল জঙ্গি নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে এ দেশে ঢোকার চেষ্টা করছিল। সেই সময়ই বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলেই চার জনের মৃত্যু হয় বলে খবর। এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে সতর্ক রয়েছে সেনা।
জম্মু-কাশ্মীরে (Jammu and Kashmir) অনুপ্রবেশের চেষ্টায় মাইন বিস্ফোরণে খতম ৪ জঙ্গি:
সেনা সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত চার জঙ্গির মধ্যে ফৈজান ছাড়াও রয়েছে ওয়াকাস, ইশতিয়াক ও আসিম নামে আরও তিন জন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ভারতীয় সেনার পুঁতে রাখা মাইনের সংস্পর্শে এসেই বিস্ফোরণটি ঘটে। তবে গোটা ঘটনার পরিস্থিতি এবং জঙ্গিদের অনুপ্রবেশের উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসা এখনও বাকি। বিস্ফোরণের পর পুঞ্চের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোনও দল সীমান্ত পেরিয়ে ঢোকার চেষ্টা করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সীমান্তে নিরাপত্তা বজায় রাখতে সেনার তরফে তল্লাশি ও নজরদারির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে (Jammu and Kashmir)।
আরও পড়ুন: এবারের পুজোয় সাধারণ মুগের ডালে আনুন অসাধারণ স্বাদ, ইলিশের মাথা দিয়ে বানান এই পদ
এদিকে, পুঞ্চের মেন্ধর সেক্টরের বাসোনি এলাকায় সীমান্তের কাছে আরও দু’টি ল্যান্ডমাইন উদ্ধার করেছেন সেনা জওয়ানরা। রাস্তা তৈরির কাজ চলার সময় মাইন দু’টি নজরে আসে। পরে সেগুলি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করা হয় বলে সেনা সূত্রে খবর। শুধু এই দু’টি মাইনই নয়, গত এক সপ্তাহে ওই এলাকা থেকে প্রায় এক ডজন ল্যান্ডমাইন উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে সীমান্তবর্তী এলাকায় পুরনো বিস্ফোরক থাকার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যেখানে রাস্তা নির্মাণ বা অন্যান্য পরিকাঠামোগত কাজ চলছে, সেখানে মাটি খোঁড়ার সময় এ ধরনের বিস্ফোরক সামনে এলে বড় বিপদের আশঙ্কা থাকে।
নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর অনুপ্রবেশ রুখতে বিভিন্ন সময়ে ল্যান্ডমাইন ব্যবহার করা হয়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রাকৃতিক পরিস্থিতির কারণে সেগুলির অবস্থান বদলে যেতে পারে। ভারী বৃষ্টিতে মাটি ধসে যাওয়া, ভূমিক্ষয় কিংবা জলের প্রবল স্রোতে মাইন সরে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এর ফলে আগে যে জায়গায় বিস্ফোরক পোঁতা হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে সেটি অন্যত্র চলে যেতে পারে। মেন্ধর সেক্টরে পরপর ল্যান্ডমাইন উদ্ধারের ঘটনাকে সেই দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ। কারণ, পুরনো বা স্থানচ্যুত মাইন শুধু সেনার জন্য নয়, সীমান্তবর্তী এলাকায় কাজ করা শ্রমিক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্যও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন: তৃণমূল প্রার্থীদের হারিয়ে বিরাট জয়! বার কাউন্সিলের ভোটে বিজেপির জয়জয়কার
কৃষ্ণা ঘাঁটি সেক্টরে চার জঙ্গির মৃত্যুর ঘটনা এবং মেন্ধরে একাধিক ল্যান্ডমাইন উদ্ধারের খবর সামনে আসার পর পুঞ্চের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। একদিকে নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা ঠেকানো, অন্যদিকে পুরনো বিস্ফোরক চিহ্নিত করে নিষ্ক্রিয় করা—দু’টি বিষয়ই এখন সেনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় সতর্কতা বজায় রাখার পাশাপাশি বিস্ফোরক উদ্ধারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তবে এই ঘটনাগুলির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এবং বিস্ফোরণের পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে এলে ছবিটি স্পষ্ট হবে। আপাতত পুঞ্চের সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বাড়িয়ে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে সেনা (Jammu and Kashmir)।














