ভূমিহীন হলেই মিলবে ৪০০০ টাকা! রাজ্যের নতুন স্কিমে বড় ঘোষণা

Published on:

Published on:

4000 Annual Aid for Eligible Workers of Landless Labourer Scheme 2026
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ জমি নেই, কিন্তু সারাদিন অন্যের জমিতে কাজ করেই সংসার চলে এমন বহু ক্ষেত মজুর এতদিন সরাসরি সরকারি আর্থিক সহায়তা থেকে বাইরে ছিলেন। এবার তাঁদের জন্যই বড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার (Landless Labourer Scheme)। বছরে ৪,০০০ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে ভূমিহীন ক্ষেত মজুরদের। কীভাবে আবেদন করবেন, কারা পাবেন, আর কী কী শর্ত মানতে হবে জানুন বিস্তারিত।

রাজ্যের কৃষকদের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্প (Landless Labourer Scheme) চালু রয়েছে। এবার সেই সুবিধার পরিধি বাড়িয়ে ভূমিহীন ক্ষেত মজুরদের জন্য আলাদা আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য উপভোক্তারা বছরে মোট ৪,০০০ টাকা পাবেন। তবে পুরো টাকা একসঙ্গে দেওয়া হবে না। বছরে দুইবার ২,০০০ টাকা করে সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। অর্থাৎ ডিবিটি (Direct Benefit Transfer) পদ্ধতিতেই টাকা পৌঁছবে।

কারা এই প্রকল্পে (Landless Labourer Scheme) আবেদনের যোগ্য?

সবাই এই প্রকল্পের (Krishak Bandhu Scheme) সুবিধা পাবেন না। নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করলেই আবেদন করা যাবে।

  • আবেদনকারীকে অবশ্যই একজন ভূমিহীন ক্ষেত মজুর হতে হবে, অর্থাৎ তিনি অন্যের জমিতে শ্রম দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।
  • আবেদনকারীর নিজস্ব কোনো কৃষি জমি থাকা চলবে না।
  • যাঁরা ইতিমধ্যে ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁরা এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন না।

এছাড়া বিশেষভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভাগচাষী বা বর্গাদাররা এই প্রকল্পের আওতায় পড়বেন না। আবেদন ফর্মে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে যে আবেদনকারী বর্গাদার নন।

আবেদনপত্র পূরণের নিয়ম

এই প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত আবেদন ফর্মটি তিনটি আলাদা পাতায় বিভক্ত। প্রতিটি অংশ সঠিকভাবে পূরণ করা অত্যন্ত জরুরি।

প্রথম পাতা: ব্যক্তিগত ও ব্যাঙ্ক তথ্য

ফর্মের এই অংশটি ইংরেজিতে বড় হাতের অক্ষরে (Capital Letters) পূরণ করতে হবে। এখানে আবেদনকারীর নাম, পূর্ণ ঠিকানা (গ্রাম, পঞ্চায়েত, ব্লক, জেলা ও পিন কোড) এবং বাবার বা স্বামীর নাম লিখতে হবে। এরপর জন্মতারিখ উল্লেখ করে ০১/০১/২০২৬ অনুযায়ী নিজের বয়স হিসাব করে লিখতে হবে। লিঙ্গ ও জাতি (SC/ST/OBC/General) নির্দিষ্ট ঘরে টিক চিহ্ন দিতে হবে। তারপর ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্য পাসবই দেখে সঠিকভাবে লিখতে হবে। অর্থাৎ, ব্যাঙ্কের নাম, অ্যাকাউন্ট নম্বর, আইএফএসসি (IFSC) কোড। সাধারণত সেভিংস অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়। এছাড়া নমিনির নাম, সম্পর্ক ও বয়স উল্লেখ করতে হবে। নমিনি নাবালক হলে অভিভাবকের নাম দিতে হবে। সবশেষে আবেদনকারীকে নিজের সই বা টিপসই দিতে হবে এবং রিসিট কপি বুঝে নিতে হবে।

দ্বিতীয় পাতা: স্বঘোষণা (Self Declaration)

এই অংশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে আবেদনকারীকে ঘোষণা করতে হবে যে তাঁর কোনো চাষযোগ্য জমি নেই এবং তিনি বর্গাদার নন। এছাড়া অন্য কোনো সরকারি ভাতা, যেমন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন কি না, তাও জানাতে হবে। ভুল তথ্য দিলে প্রাপ্ত অর্থ ফেরত দিতে হবে, এই শর্তে সম্মতি জানিয়ে সই করতে হবে।

তৃতীয় পাতা: আধার সম্মতিপত্র

ডিবিটি পদ্ধতিতে টাকা পাওয়ার জন্য আধার লিংক থাকা বাধ্যতামূলক। এই পাতায় আধার নম্বর, ভোটার কার্ড নম্বর এবং মোবাইল নম্বর দিয়ে সম্মতি জানাতে হবে।

প্রয়োজনীয় নথিপত্র

আবেদনপত্রের সঙ্গে নিজস্ব সই করা (Self-attested) জেরক্স জমা দিতে হবে।
১. আধার কার্ড
২. ভোটার কার্ড
৩. ব্যাঙ্ক পাসবুকের প্রথম পাতা (যেখানে ছবি ও অ্যাকাউন্ট নম্বর স্পষ্ট দেখা যায়)

যদি পাসবইয়ে ছবি না থাকে, তাহলে জেরক্সের ওপর নিজের পাসপোর্ট সাইজ ছবি রেখে আবার জেরক্স করতে হবে।

Krishak Bandhu Scheme Payment Delay Explained

 

আরও পড়ুনঃ দোলের পরই রথযাত্রা, ভোটের আগে বাংলায় নতুন কৌশল বিজেপির

এই প্রকল্পের (Landless Labourer Scheme) ফর্ম সাধারণত দুয়ারে সরকার ক্যাম্প বা বিডিও অফিস থেকে নির্দিষ্ট রেজিস্ট্রেশন নম্বর বা স্ট্যাম্পসহ দেওয়া হয়। তাই বাইরে খোলা বাজার থেকে ফর্ম কিনে জমা না দেওয়াই ভালো।‌ সরকারি সূত্রে দেওয়া নির্ধারিত ফর্মই ব্যবহার করতে হবে।