বাংলা হান্ট ডেস্ক : উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দেশের বুলেট ট্রেন (Bullet Train) সংযোগের স্বপ্ন কবে বাস্তবায়িত হবে, এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র। শিলিগুড়ি– বারাণসী হাইস্পিড রেল করিডর নিয়ে নতুন করে সেই প্রশ্নই সামনে আসছে। কেন্দ্রের ঘোষিত এই প্রকল্প ঘিরে সাধারণ মানুষেরা দীর্ঘদিন ধরেই আশাবাদী থাকলেও, বাস্তবায়নের সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। রেল কর্তৃপক্ষের ধারণা অনুযায়ী, মুম্বই–আমেদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্প সম্পূর্ণ গতিতে এগোনোর আগে অন্য হাইস্পিড রেল করিডরগুলিতে বড়সড় নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
বাংলায় বুলেট ট্রেনের (Bullet Train) প্রকল্পের ভবিষ্যৎ
রেল-সংশ্লিষ্ট মহলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মুম্বই–আমেদাবাদ করিডরই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এগোচ্ছে। সেই প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত নতুন হাইস্পিড রেল করিডর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে রেল মন্ত্রকের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
সূত্রের খবর, মুম্বই–আমেদাবাদ করিডরের একটি অংশে ২০২৭ সালের মধ্যে পরিষেবা চালুর লক্ষ্য রাখা হলেও পুরো প্রকল্প শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনও স্পষ্ট নয়। সেই কারণেই শিলিগুড়ি–বারাণসী-সহ অন্যান্য ঘোষিত হাইস্পিড রেল প্রকল্পগুলির ভবিষ্যৎ নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে কেন্দ্রের পরিকল্পনায় মোট সাতটি হাইস্পিড রেল করিডর রয়েছে। শিলিগুড়ি–বারাণসী ছাড়াও তালিকায় রয়েছে মুম্বই–পুনে, পুনে–হায়দরাবাদ, হায়দরাবাদ–বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ–চেন্নাই, চেন্নাই–বেঙ্গালুরু এবং দিল্লি–বারাণসী রুট। এই প্রকল্পগুলির লক্ষ্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলির মধ্যে দ্রুত, আধুনিক এবং উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।
রেল বোর্ডের সূত্র জানিয়েছে, ঘোষিত কোনও প্রকল্পই বাতিল করা হচ্ছে না। ধাপে ধাপে প্রতিটি করিডরের বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট (ডিপিআর) প্রস্তুত করার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে অর্থ বরাদ্দ, প্রযুক্তিগত অনুমোদন এবং নির্মাণের অগ্রগতির ভিত্তিতেই বাস্তবায়নের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।

আরও পড়ুন : ৭ দিনের মধ্যে শুনানি শেষ করতে হবে! অভিষেকের চিকিৎসা মামলা নিয়ে হাই কোর্টকে ডেডলাইন সুপ্রিম কোর্টের
উত্তরবঙ্গের বাসিন্দাদের কাছে শিলিগুড়ি–বারাণসী করিডর বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কারণ, ভবিষ্যতে এই রুট চালু হলে দিল্লি-সহ উত্তর ভারতের সঙ্গে দ্রুতগতির রেল যোগাযোগের নতুন দিগন্ত খুলে যেতে পারে। তবে আপাতত প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে কেন্দ্রের অগ্রাধিকার এবং চলমান বুলেট ট্রেন প্রকল্পের অগ্রগতির উপর। তাই স্বপ্নের এই হাইস্পিড রেল করিডর নিয়ে প্রত্যাশা অটুট থাকলেও, বাস্তবের মাটিতে তার কাজ কবে শুরু হবে, সেই উত্তর এখনও সময়ের হাতেই রয়ে গেল।
















