বাংলা ওহান্ট ডেস্ক: ৫৪ বছর পর মহাকাশ অভিযানে নতুন যুগের সূচনা হল NASA-র হাত ধরে। ভারতীয় সময় ২ এপ্রিল ভোর ৩:৫৪ মিনিটে কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হল আর্টেমিস ২ মিশন (NASA Artemis II Mission)। বিশাল এসএলএস রকেটের মাধ্যমে চারজন মহাকাশচারীকে নিয়ে মহাকাশযান ওরিয়ন পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছে গিয়েছে। প্রায় ৫৪ বছর পর ফের একবার মানুষকে চাঁদের পথে পাঠানোর এই উদ্যোগ ঘিরে বিশ্বজুড়ে উৎসাহ তুঙ্গে।
৫৪ বছর পর চাঁদের মানুষ পাঠিয়ে ইতিহাস গড়ল NASA-র আর্টেমিস-২ মিশন (NASA Artemis II Mission):
এই ঐতিহাসিক অভিযানে অংশ নিয়েছেন কমান্ডার রিড ওয়াইসম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিশ্চিনা কচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির নভোচারী জেরেমি হানসেন। চারজনই ইতিমধ্যে ওরিয়ন ক্যাপসুলে বসে চাঁদের দিকে যাত্রা করছেন। এটি কোনও অবতরণ মিশন নয়, বরং একটি ১০ দিনের পরীক্ষামূলক অভিযান, যেখানে মহাকাশযানের সক্ষমতা ও প্রযুক্তি যাচাই করা হবে।
আরও পড়ুন: সোনার দামে বড় টুইস্ট! লক্ষ্মীবারে হলুদ ধাতুর দর পতনে মধ্যবিত্তের মুখে হাসি, জানুন আজকের লেটেস্ট রেট
এই অভিযানে নভোচারীরা ঘণ্টায় প্রায় ৯৬০০ কিলোমিটার বেগে চাঁদের খুব কাছ দিয়ে উড়ে যাবে এবং সেটিকে প্রদক্ষিণ করে আবার পৃথিবীতে ফিরবে। ফেরার সময় ওরিয়ন ক্যাপসুল প্রায় ৪০,০০০ কিলোমিটার গতিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে, যা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং একটি ধাপ। এই সময় মহাকাশযানের তাপ নিরোধক ব্যবস্থা, যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং গভীর মহাকাশে চলাচলের ক্ষমতা পরীক্ষা করা হবে।
বলা বাহুল্য, এর আগে ১৯৭২ সালে Apollo 17 চন্দ্র অভিযানের মাধ্যমে শেষবার মানুষ চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। দীর্ঘ বিরতির পর আর্টেমিস ২ সেই ধারাবাহিকতাকেই নতুন করে শুরু করল। এই মিশন সফল হলে পরবর্তী ধাপে আর্টেমিস ৩-এর মাধ্যমে চাঁদের মাটিতে মানুষের অবতরণ ঘটানো হবে। পাশাপাশি চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনাও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে নাসা, যা ভবিষ্যতে মঙ্গল অভিযানের পথ সুগম করবে।

আরও পড়ুন: ‘এখনও একটা টাকাও..,’ বকেয়া DA দেয়নি রাজ্য? বিস্ফোরক অভিযোগ সরকারি কর্মীদের
এই যাত্রাপথে তারা চাঁদের দূরবর্তী অঞ্চলের উপর দিয়ে যাবে, যেখানে কিছু সময়ের জন্য পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে। পুরো অভিযানের সময় একাধিক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রায় ১০ দিন পর ওরিয়ন ক্যাপসুলটি প্যারাসুটের সাহায্যে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবে, যার মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামূলক মিশনের সমাপ্তি ঘটবে (NASA Artemis II Mission)।












