বাংলা হান্ট ডেস্কঃ অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) নিয়ে আলোচনা শুরু হতেই সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে নতুন আশা তৈরি হয়েছে। এই সময়ে AITUC ১২ দফা কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি জমা দিয়েছে। বেতন বাড়ানো থেকে পেনশন, ছুটি, সবকিছুতেই বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। এই দাবিগুলো মানা হলে কেন্দ্রের পাশাপাশি রাজ্য সরকারি কর্মীরাও লাভবান হতে পারেন।
বেতন ও ইনক্রিমেন্টে বড় বদলের প্রস্তাব (8th Pay Commission)
অষ্টম বেতন কমিশনকে (8th Pay Commission) সামনে রেখে বেতন কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের দাবি উঠেছে। কর্মীদের বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর অন্তত ৩.০ করার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ৩ শতাংশ হলেও, সেটিকে বাড়িয়ে ৬ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে কর্মীদের আয় দ্রুত বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া বেতন নির্ধারণের পদ্ধতিতেও বদলের কথা বলা হয়েছে। আগে যেখানে তিন সদস্যের পরিবারের ভিত্তিতে বেতন নির্ধারণ হতো, সেখানে এখন বাবা-মা সহ মোট পাঁচজন সদস্যকে ধরার দাবি উঠেছে। এতে বেসিক পে অনেকটাই বাড়তে পারে। বেতনের অনুপাতের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:১৪ থেকে কমিয়ে ১:১০ করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ৩০ বছরের চাকরিজীবনে অন্তত ৫টি পদোন্নতি নিশ্চিত করার দাবিও তোলা হয়েছে।
পেনশন, বোনাস ও ভাতায় বড়সড় দাবি
পেনশন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের দাবি তুলেছে AITUC। ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম (NPS) এবং ইউনিফাইড পেনশন স্কিম (UPS) বাতিল করে পুরনো পেনশন স্কিম (OPS) ফের চালুর দাবি জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রতি পাঁচ বছরে ৫ শতাংশ করে পেনশন বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। কমিউটেড পেনশনের ক্ষেত্রে বর্তমানে ১৫ বছর সময় লাগে সম্পূর্ণ অর্থ ফিরে পেতে। এই সময়সীমা কমিয়ে ১১ থেকে ১২ বছরে আনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
বোনাসের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে ৭০০০ টাকার সীমা তুলে দিয়ে ১৮,০০০ টাকার বেসিক পে ধরে বোনাস হিসাব করার দাবি উঠেছে। ছুটির ক্ষেত্রেও বড় সুবিধার প্রস্তাব রয়েছে, লিভ এনক্যাশমেন্টের সীমা ৩০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ৪৫০ দিন করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি সম্পূর্ণ ক্যাশলেস চিকিৎসা, এবং মাসিক ও পিতৃত্বকালীন ছুটি বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে।
সেনা ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে কর্মীদের জন্য বিশেষ প্রস্তাব
- রেল, CAPF ও প্রতিরক্ষা বিভাগের অসামরিক কর্মীদের জন্য বিশেষ ঝুঁকি ভাতা বাড়ানোর দাবি তোলা হয়েছে।
- ডিউটির সময় মৃত্যু হলে ২ কোটি টাকা এবং বড় দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ১.৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
- এছাড়া ‘অগ্নিবীর’ নিয়োগ প্রথা বন্ধ করে স্থায়ী নিয়োগ চালুর দাবি জানানো হয়েছে।
- চুক্তিভিত্তিক ও আউটসোর্সিং নিয়োগ বন্ধ করে প্রায় ১৫ লক্ষ শূন্যপদে স্থায়ী নিয়োগের কথাও বলা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ২১ লক্ষ বিবেচনাধীন নামের নিষ্পত্তি করল কমিশন, এবার কবে বেরবে নতুন সাপ্লিমেন্টারি তালিকা?
রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ সাধারণত রাজ্যগুলির বেতন কাঠামোকেও প্রভাবিত করে। তাই ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বা অন্যান্য পরিবর্তন যদি কার্যকর হয়, তাহলে রাজ্যের কর্মীরাও তার সরাসরি সুবিধা পেতে পারেন। এই পরিস্থিতিতে অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) ঘিরে যে দাবিগুলি সামনে এসেছে, সেগুলি কার্যকর হলে সরকারি কর্মীদের আর্থিক অবস্থায় বড় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।












