বাংলা হান্ট ডেস্কঃ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য সুখবর। অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) এবার বেতন, পেনশন এবং অবসরের পর আর্থিক সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু করতে চলেছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন কর্মী সংগঠনের মতামত নেওয়া হয়েছে। এবার সেই সব প্রস্তাব খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে কমিশন। তাই লক্ষ লক্ষ কর্মচারীর নজর এখন এই কমিশনের কাজের উপর।
অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) : বেতন, পেনশন ও OPS নিয়ে বাড়ছে জল্পনা
২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) গঠন করে কেন্দ্র সরকার। এই কমিশনের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই। সদস্য হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক পুলক ঘোষ এবং সদস্য-সচিব পঙ্কজ জৈন। কমিশনের কাজ শুরু হওয়ার পর গত নয় মাসে বিভিন্ন কর্মী সংগঠন, সরকারি দফতর এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। এখন সেই কাজ নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। এবার মূলত পেনশন, অবসরকালীন সুবিধা এবং অবসরের পর আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
পরবর্তী দফার বৈঠক শুরু হচ্ছে দিল্লিতে। ১০ আগস্ট পর্যন্ত সেখানে আলোচনা চলবে। এরপর চেন্নাই, পুদুচেরি, চণ্ডীগড় এবং জয়পুরে বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবে কমিশন। জয়পুরে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর। এই আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে জাতীয় পরিষদ-যৌথ পরামর্শদাতা মঞ্চ (এনসি-জেসিএম)-এর জমা দেওয়া স্মারকলিপি। সেখানে পেনশনভোগীদের আর্থিক সুরক্ষা বাড়ানো, পেনশনে সমতা আনা এবং কর্মচারীদের জন্য আরও কিছু সুবিধার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কমিশন ওই প্রস্তাবগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
এবারের বেতন কমিশনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর। কারণ এই হার ঠিক করে দেয় কর্মচারীদের মূল বেতন কতটা বাড়বে। ষষ্ঠ বেতন কমিশনে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ছিল ১.৮৬। সপ্তম বেতন কমিশনে তা বেড়ে হয় ২.৫৭। অষ্টম বেতন কমিশনে (8th Pay Commission) এই হার কত হবে, সেটাই এখন কর্মচারীদের সবচেয়ে বড় আগ্রহের বিষয়।
অন্যদিকে, এনসি-জেসিএম পুরনো পেনশন প্রকল্প বা ওল্ড পেনশন স্কিম (OPS) ফের চালুর দাবিও জানিয়েছে। কর্মী সংগঠনগুলির মতে, অবসরের পরে নির্দিষ্ট পেনশন থাকলে কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা আরও মজবুত হবে। শুধু তাই নয়, বর্তমানে ন্যূনতম মাসিক পেনশন ৯ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে অন্তত ১০ হাজার টাকা করার দাবিও তোলা হয়েছে। সংগঠনগুলির বক্তব্য, বর্তমান বাজারদরে ৯ হাজার টাকা যথেষ্ট নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক মাস কমিশনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন সংগঠনের মতামত ও প্রস্তাব পর্যালোচনা করার পর চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি হবে। সেই রিপোর্ট ২০২৭ সালের মে বা জুন মাসে কেন্দ্র সরকারের হাতে জমা পড়তে পারে। এরপর সরকার সেই সুপারিশ বিবেচনা করে বেতন, ভাতা, পেনশন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

আরও পড়ুনঃ ১৭ আগস্ট থেকে অন্নপূর্ণার টাকা দেওয়া শুরু! লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়েও বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
ভারতে সাধারণত প্রতি ১০ বছর অন্তর নতুন বেতন কমিশন গঠন করা হয়। সেই কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই পরবর্তী দশ বছরের বেতন ও পেনশন কাঠামো নির্ধারিত হয়। তাই অষ্টম বেতন কমিশনের (8th Pay Commission) প্রতিটি বৈঠক এবং সিদ্ধান্তের দিকে এখন নজর রাখছেন লক্ষ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগী।













