বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের (India) উত্তরাংশজুড়ে হিমালয় এবং পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে গঠিত বিস্তীর্ণ ভূভাগকে ভূমিকম্প-প্রবণ ঘোষণা করল ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (বিআইএস)। সম্প্রতি প্রকাশিত নতুন সিসমিক জোনেশন মানচিত্রে হিমালয় সমগ্র অঞ্চলকেই রাখা হয়েছে সর্বোচ্চ ঝুঁকির Zone VI-এ। ২০১৬ সালের পর এই মানচিত্র প্রথমবার আপডেট করা হল, এবং তাতে দেখা যাচ্ছে, দেশের প্রায় ৬১ শতাংশ অঞ্চলই মাঝারি থেকে উচ্চ ভূমিকম্প-ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সতর্কতা আগামী দিনে উত্তর ভারতের বিভিন্ন অংশে বিপদের সম্ভাবনা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।
ভারতের (India) বিভিন্ন অংশে ভূমিকম্পের আশঙ্কা
হিমালয় প্রাকৃতিকভাবে ভূমিকম্প-প্রবণ এলাকা, কারণ এর নীচ দিয়ে ভারতীয় (India) টেকটনিক প্লেট ক্রমাগত ইউরেশীয় প্লেটের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। প্রতি বছর প্রায় ৫ সেন্টিমিটার করে এই ধাক্কা চলতে থাকায় ভূ-পৃষ্ঠে তীব্র চাপ তৈরি হয়। দীর্ঘ সময় ওই চাপ সঞ্চিত থাকার পর তা যদি হঠাৎ মুক্তি পায়, তবে মারাত্মক ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধাক্কা শুধু পর্বতশ্রেণী নয়, আশপাশের সমভূমির উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ভূকম্পনের ঝুঁকি কেবল পাহাড়ি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নয়—বরং বিস্তৃত অঞ্চলে এর প্রভাব পড়তে পারে।
আরও পড়ুন:নতুন বছরেই যাত্রীদের জন্য বড় পদক্ষেপ রেলের! নামমাত্র খরচে ট্রেনের স্লিপার কামরাতেও মিলবে বালিশ-চাদর
ভূতাত্ত্বিক হিসেবেও হিমালয়ের বয়স কম, ফলে এখানকার শিলা এখনও চূড়ান্তভাবে শক্ত হয়নি। শিলার ভিতরে অবিরত ভাঙা, বাঁকানো এবং সরে যাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এই কারণেই হিমালয় এখনও বেড়ে চলেছে দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে। পাহাড়ের পাদদেশে নানা জায়গায় ফাটল তৈরি হচ্ছে, ভূ-পৃষ্ঠের চাপ বেরিয়ে যাওয়ার প্রবল প্রচেষ্টাও দেখা যাচ্ছে। এসব গতিবিধিতেই ছোট ও মাঝারি মাত্রার কম্পন নিয়মিত ঘটে চলেছে। ভূতাত্ত্বিকরা বলছেন, এই অস্থিরতার কারণেই হিমালয় অঞ্চল বহু দশক ধরেই শক্তিশালী ভূমিকম্পের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
হিমালয়ের নীচে তিনটি বড় ভূতাত্ত্বিক ফল্ট রয়েছে—মেন ফ্রন্টাল থ্রাস্ট, মেন বাউন্ডারি থ্রাস্ট এবং মেন সেন্ট্রাল থ্রাস্ট। এই তিনটি রেখায় ক্রমাগত ভাঙন ও চাপের বিনিময় ঘটে চলেছে, যা ভূকম্পনের অন্যতম প্রধান কারণ। এদের গতিবিধি শুধু পাহাড়ি অঞ্চল নয়, বরং আশপাশের সমভূমিকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়। নতুন সিসমিক ম্যাপে তাই স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই অঞ্চলগুলিতে আগামী সময়ে যেকোনও মাত্রার ভূমিকম্প দেখা দিতে পারে। ফলে রাষ্ট্রীয় (India) ও আঞ্চলিক প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

এই পরিস্থিতিতে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে ভারতের (India) দেরাদুন, হরিদ্বার, উত্তরাখণ্ডসহ সমগ্র হিমালয় পাদদেশকে। গবেষকদের মতে, ভূকম্পনের প্রভাবে কম্পন দিল্লি পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। এমনকি উত্তরপ্রদেশের বেশ কয়েকটি জেলাও উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন সিসমিক জোনেশন ম্যাপ শুধুমাত্র সতর্কবার্তা নয়, বরং পরিকাঠামো উন্নয়নে নতুন নির্দেশনাও তৈরি করবে। ভবিষ্যতে ভূমিকম্প প্রতিরোধী নির্মাণ এবং জরুরি সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি।












