বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে শুরু হয়েছে শুনানি। এই শুনানিকে কেন্দ্র করে কারা ডাক পাবেন, কারা পাবেন না, তা নিয়ে জারি হল গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ। নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিল, সব ‘আনম্যাপড’ ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হবে না।
ম্যাপিংয়ে যারা ধরা পড়েনি তাদের না ডাকার সিদ্ধান্ত কমিশনের (SIR)
এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় ‘আনম্যাপড’ ভোটার হিসেবে চিহ্নিতদের মধ্যে যাঁদের নাম বা উত্তরাধিকারের যোগসূত্র ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে রয়েছে, কিন্তু প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে BLO অ্যাপে সেই ম্যাপিং ধরা পড়েনি, তাঁদের শুনানিতে না ডাকার সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে জেলা শাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে এই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।
শনিবার থেকে রাজ্যে শুরু হয়েছে ভোটারদের শুনানি প্রক্রিয়া (SIR)। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম দফায় ডাকা হচ্ছে সেই সব ভোটারদেরই, যাঁদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে কোনও ভাবেই ম্যাপ করা যায়নি। রাজ্যে এই ধরনের ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৩২ লক্ষ।
শুনানির জন্য গোটা পশ্চিমবঙ্গে তৈরি করা হয়েছে প্রায় ৩২৩৪টি কেন্দ্র। প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় গড়ে ১১টি করে শুনানি কেন্দ্র রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকেই এই শুনানি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রতিটি শুনানি কেন্দ্রে উপস্থিত থাকছেন সংশ্লিষ্ট ERO, AERO এবং নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত একজন করে মাইক্রো রোল অবজার্ভার।
উল্লেখ্য, এই মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ ঘিরেই প্রশ্ন তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা না করেই দিল্লি থেকে লোক এনে এই পদে নিয়োগ করছে নির্বাচন কমিশন। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে দলের BLA-দের সঙ্গে বৈঠকে মমতা বলেন, তিনি শুনেছেন অনেক কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীকে এই কাজে নিয়োগ করা হয়েছে। কারা তাঁরা, কোথায় কাজ করেন, কোথায় থাকেন, এই সব তথ্য রাজ্যকে জানাতে হবে। তিনি স্পষ্ট করেন, রাজ্য সহযোগিতা করবে, তবে বিস্তারিত তথ্য না জানিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবেই এই কাজ করছে কমিশন বলে তাঁর অভিযোগ।
কলকাতায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর এবং কলেজ ভবনে শুনানি কেন্দ্র চলছে। জেলাগুলিতে এই শুনানি হচ্ছে বিডিও অফিস এবং ব্লক স্তরের সরকারি দপ্তরগুলিতে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার জন্য প্রায় চার হাজার মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। কলকাতার নজরুল মঞ্চে দু’দফায় এই মাইক্রো অবজার্ভারদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ SIR বিতর্কে নতুন মোড়, ‘সীমা খান্নার চ্যাট আমার কাছে’ বলে বিস্ফোরক অভিষেক
কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এই মাইক্রো অবজার্ভাররাই মূলত পুরো শুনানি প্রক্রিয়ার উপর নজরদারির দায়িত্বে থাকবেন। তাঁরা সকলেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী। যদিও প্রথমে অন্য রাজ্যের কর্মীদের আনার কথা শোনা গিয়েছিল, পরে সিইও দপ্তর স্পষ্ট করে জানায়, যাঁদেরই মাইক্রো অবজার্ভার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে, তাঁরা সকলেই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। এদিকে সিইও মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, যেসব আনম্যাপড ভোটারদের ডাকা হয়েছে, তাঁরা যদি সিএএ (CAA) সার্টিফিকেট দাখিল করতে পারেন, তাহলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় (SIR) তাঁদের নাম রাখা হবে।













