বাংলাহান্ট ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্রমশ ছোট ছোট চরমপন্থী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সময় যে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা, নাগরিক সুরক্ষা ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তার কোনওটাই কার্যকর হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার কার্যত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ, যার সুযোগ নিচ্ছে উগ্রপন্থী ও সহিংস গোষ্ঠীগুলি।
নির্বাচনের আবহে বাংলাদেশে (Bangladesh) ৪৫ দিনে খুন ১৫ হিন্দু
সিপিডি বোর্ডের মূল্যায়ন অনুযায়ী, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারের প্রতি আস্থা দ্রুত কমছে। নির্বাচন ঘোষণার ঠিক আগে এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বাংলাদেশের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনেও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার আদৌ সুষ্ঠু ও ভয়মুক্ত নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে কি না।
আরও পড়ুন: মার্কিন শুল্ক বাধাকে অতিক্রম করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ভারত! ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে হচ্ছে বাণিজ্য চুক্তি
এদিকে মানবাধিকার সংগঠনের তথ্য আরও উদ্বেগজনক ছবি তুলে ধরেছে। তাদের দাবি, ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ৪৫ দিনে বাংলাদেশে ১৫ জন সংখ্যালঘু হিন্দু খুন হয়েছেন। অর্থাৎ গড়ে প্রতি তিন দিনে একজন করে হিন্দু নাগরিক নিহত হচ্ছেন। এই ঘটনাগুলি ঘটেছে এমন এক সময়ে, যখন দেশে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। প্রতিবেদনে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের তারিখ ও নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিহতদের একটি বড় অংশই ময়মনসিংহ রোড সংলগ্ন এলাকা থেকে বলে জানা গিয়েছে। এই অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর সহিংসতার জন্য কুখ্যাত বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি। ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের পরও প্রশাসনের তরফে দৃশ্যমান কঠোর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে বলেই অভিযোগ উঠছে, যা অন্তর্বর্তী সরকারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

আরও পড়ুন: শুনানি নিয়ে আর চিন্তা নেই, বাড়িতে বসে নিজেই আপলোড করা যাবে নথি, বড় সিদ্ধান্ত কমিশনের
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় পরিষদের ৩০০টি আসনের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে এই নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলনের জেরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন। তার পরেই মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। বর্তমান সহিংসতা, সংখ্যালঘু হত্যা এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগের মাঝেই বাংলাদেশ এগোচ্ছে এক অত্যন্ত সংবেদনশীল নির্বাচনের দিকে।

















