বাংলা হান্ট ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত থাকলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে একটি সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ভারতের (India) জন্য নতুন আশার আলো হয়ে উঠেছে। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এই চুক্তিটি ২৭ জানুয়ারি, ভারতীয় প্রজাতন্ত্র দিবসের পরবর্তী দিনে, আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হতে পারে। ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্তোনিও কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েনের ভারত সফর এই বিষয়ে একটি চূড়ান্ত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করবে ভারত (India)
ইউরোপীয় নেতৃদ্বয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে ২৫ থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতে অবস্থান করবেন এবং সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন। তাদের সফরের শেষ দিনেই দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সূত্রমতে, ২৪টি আলোচ্য অধ্যায়ের মধ্যে ইতিমধ্যেই ২০টি অধ্যায়ে সম্মতিতে পৌঁছানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘দেবদাকেই যেখানে…’, এবার SIR শুনানির সমন পেলেন সৌমিতৃষা! কিন্তু কেন?
সম্প্রতি ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দপ্তরে কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযুষ গোয়েলের বৈঠক এই আলোচনাকে আরও গতি দিয়েছে। যদিও এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যেমন বৌদ্ধিক সম্পদ সুরক্ষা এবং সেবা খাতের প্রবেশাধিকার নিয়ে আলোচনা বাকি, তবুও নির্ধারিত তারিখের মধ্যে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব বলে আশা করা হচ্ছে। চুক্তিটি কৃষি ক্ষেত্রকে বাদ রেখে, উৎপাদন, প্রযুক্তি, শক্তি, ওষুধ ও ফার্মাসিউটিক্যালসের মতো ক্ষেত্রগুলিতে ফোকাস করবে।
এই চুক্তি ভারতের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চ শুল্ক আরোপের কারণে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ইইউ-এর সাথে এফটিএ কার্যকর হলে তা মার্কিন বাজারে প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত ক্ষতি পুষিয়ে দিতে এবং ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য একটি বিশাল বিকল্প বাজার উন্মুক্ত করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইউরোপীয় বাজারে শুল্ক হ্রাস ভারতীয় পণ্য, বিশেষ করে তৈরি পোশাক, ইলেকট্রনিক্স এবং ফার্মাসিউটিক্যালের জন্য উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করবে।

আরও পড়ুন: একটা ভুলেই বিপদ! আপনি যে ডিম খাচ্ছেন, সেটি কি আসল নাকি নকল? এখনই বুঝে নিন
২০০৭ সাল থেকে চলমান দীর্ঘ আলোচনার পর এই চুক্তি বাস্তবায়ন ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য কৌশলে একটি বড় মাইলফলক হবে। এটি কেবল অর্থনৈতিক সুবিধাই দেবে না, ভারত-ইউরোপ কৌশলগত অংশীদারিত্বকেও একটি নতুন মাত্রা দেবে। ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশাধিকার প্রসারিত হলে ভারতীয় শিল্পের প্রতিযোগিতামূলকতা বাড়বে এবং বহুমুখী রপ্তানি নীতি বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।












