বাংলা হান্ট ডেস্কঃ দেশজুড়ে আর্থিক জালিয়াতি নিয়ে যখন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক টানাপোড়েন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়ই কলকাতা থেকে সামনে এল প্রায় ২,৮০০ কোটি টাকার এক ব্যাঙ্ক ঋণ কেলেঙ্কারি। দীর্ঘদিনের তদন্তের পরে এই মামলায় কলকাতার এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (Enforcement Directorate)। শুক্রবার গ্রেপ্তারের পর শনিবার বিশেষ আদালতে তোলা হলে তাঁকে চার দিনের ইডি হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এই জালিয়াতির জাল বহু বছর ধরে ধাপে ধাপে ছড়ানো হয়েছিল।
কী ঘটেছে এই মামলায়?
গ্রেপ্তার হওয়া কলকাতার ব্যবসায়ী হলেন প্রত্যুষ কুমার সুরেকাকে (৪০)। ইডির (Enforcement Directorate) দাবি, দীর্ঘ তদন্তে তাঁর নাম সামনে এসেছে। এছাড়া এই ঘটনায় ভুয়ো নথি তৈরি, ডামি ডিরেক্টর নিয়োগ, ব্যাকডেটেড চুক্তি এবং হাজার কোটি টাকা অন্যত্র সরানোর মতো একাধিক গুরুতর অনিয়ম হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
কোন সংস্থাকে ঘিরে এই মামলা?
এই মামলার মূল সংস্থা হল Shree Ganesh Jewellery House Limited (SGJHIL)। অভিযোগ, সংস্থাটি এবং তার প্রোমোটাররা ২৫টি ব্যাঙ্ক নিয়ে তৈরি একটি কনসোর্টিয়াম থেকে প্রায় ২,৬৭২ কোটি টাকা ঋণ নেয়, কিন্তু সেই টাকা সঠিক কাজে ব্যবহার করা হয়নি। এই ঘটনার সূত্রপাত ২০১৬ সালে। তখনই Central Bureau of Investigation (CBI) একটি FIR দায়ের করে। সেই মামলার ভিত্তিতেই পরে ইডি (Enforcement Directorate) তদন্ত শুরু করে।
ইডির (Enforcement Directorate) দাবি, ২০১১-১২ সালে SGJHIL যে ঋণ পেয়েছিল, সেই টাকা গয়নার ব্যবসায় না খরচ করে ‘সোলার পাওয়ার’ প্রকল্পে বিনিয়োগের নাম করে অন্য সংস্থায় পাঠানো হয়। এই লেনদেনের সঙ্গে জড়িয়ে Alex Astral Power Pvt. Ltd.-এর নাম উঠে এসেছে। ২০১২ সালের এপ্রিলে প্রত্যুষ কুমার সুরেকা ওই সংস্থার জয়েন্ট ম্যানেজিং ডিরেক্টর হন। এরপর থেকেই একের পর এক অনিয়ম সামনে আসে –
- ভুয়ো বোর্ড মিটিংয়ের কাগজ
- পুরনো তারিখ বসিয়ে চুক্তি
- ডিজিটাল সইয়ের অপব্যবহার
- ডামি ডিরেক্টর বসানো
- কাগুজে ঋণ আর ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে টাকা পাঠানো
ইডির (Enforcement Directorate) বক্তব্য, এভাবেই কোটি কোটি টাকা ধাপে ধাপে বাইরে সরানো হয়।
বিদেশে পালানোর আগেই ইডির (Enforcement Directorate) ধরপাকড়
ইডি (Enforcement Directorate) সূত্রে জানা গেছে, প্রত্যুষ সুরেকার বিরুদ্ধে গত ৫ জানুয়ারি লুক আউট সার্কুলার জারি করা হয়েছিল। শুক্রবার তিনি থাইল্যান্ড যাওয়ার জন্য কলকাতা বিমানবন্দরে গেলে সেখানেই তাঁকে আটক করা হয়। এদিকে, অন্য একটি মামলায় ইডি জানিয়েছে, হরিয়ানা ও রাজস্থানে কাজ করা Piyush Group-এর বিরুদ্ধে বড় আর্থিক জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে। ২০১০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে সংস্থাটি বাড়ি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৬০০ কোটির বেশি টাকা তোলে। কিন্তু বহু গ্রাহক আজও বাড়ি পাননি। অভিযোগ-
- একই ফ্ল্যাট একাধিক জনকে বিক্রি
- ব্যাঙ্কের অনুমতি ছাড়া বন্ধকী জমি বিক্রি
- নথি জাল
- বিনিয়োগকারীদের ভুল আশ্বাস
সংস্থার দুইটি প্রধান কোম্পানি এখন CIRP-এর আওতায় রয়েছে। ফরেনসিক অডিটেও টাকা অন্যদিকে সরানোর প্রমাণ মিলেছে।

আরও পড়ুনঃ ‘আমরা আপনাদের কাস্টডিতে’, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির সামনে আর্জি মমতার, কেন?
প্রসঙ্গত, কয়লা পাচার মামলায় কিছুদিন আগেই তৃণমূলের ভোট কুশলী সংস্থা I-PAC-এর অফিসে ইডির হানা ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ইডির বিরুদ্ধে তথ্য চুরির অভিযোগ তুলেছিলেন। পাল্টা ইডি জানায়, তদন্তে বাধা দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। এই সব বিতর্কের মধ্যেই আর্থিক জালিয়াতির মামলায় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (Enforcement Directorate)।













