বাংলা হান্ট ডেস্কঃ মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর হওয়ার পরই দেশের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। এর সঙ্গে জুড়েছে আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন প্রসঙ্গ (Delimitation & Women Reservation Bill)। বিরোধীরা আশঙ্কা করছে, এই প্রক্রিয়ায় কিছু রাজ্য বঞ্চিত হতে পারে। তবে কেন্দ্র জানাচ্ছে, এই ভয় সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে।
নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক (Delimitation & Women Reservation Bill)
মহিলা সংরক্ষণ বিল ১৬ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়েছে। ২০২৩ সালে পাশ হওয়া এই বিল আইনে পরিণত হওয়ার পরই আসন পুনর্বিন্যাস (Delimitation & Women Reservation Bill) নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর ভোটের সময় এই বিল আনা মোটেই কাকতালীয় নয়। তাদের মতে, রাজনৈতিক স্বার্থেই কেন্দ্র এই সময়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি তারা প্রশ্ন তুলছে, ২০২৬-২৭ সালের জনগণনার নতুন তথ্যের ভিত্তিতে ডিলিমিটেশন না করে এখনই কেন এই প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে।
মহিলা সংরক্ষণ নিয়েও সরব বিরোধীরা। তাদের দাবি, বর্তমান ৫৪৩টি লোকসভা আসনের মধ্যেই ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ চালু করা হোক। কংগ্রেসের তরফে জাতিগত জনগণনার দাবি তোলা হয়েছে। অন্যদিকে সমাজবাদী পার্টি বলছে, সংরক্ষণের মধ্যে ওবিসি ও মুসলিম মহিলাদের জন্য আলাদা কোটা থাকা উচিত। দক্ষিণ ভারতের একাধিক রাজনৈতিক দল আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, প্রস্তাবিত ডিলিমিটেশন কার্যকর হলে তাদের রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব কমে যেতে পারে।
যদিও কেন্দ্র এই সমস্ত অভিযোগ খারিজ করেছে। সরকারের দাবি, কোনও রাজ্যের আসন কমবে না, বরং নির্দিষ্ট ফর্মুলা মেনে সব রাজ্যের আসনই বাড়বে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন, দক্ষিণের রাজ্যগুলির আসন সংখ্যা ১২৯ থেকে বেড়ে ১৯৫ হবে। আসন পুনর্বিন্যাস পুরোপুরি কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করবে এই অভিযোগও মানতে নারাজ সরকার। তাদের বক্তব্য, আগের আইন মেনেই এই প্রক্রিয়া চালানো হবে।
মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে সময়ের অভাবে এই সংরক্ষণ কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। তবে এখন আইন কার্যকর হলেও ২০২৯ সালের আগে তা বাস্তবে প্রয়োগ হবে না। এছাড়া আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনগুলি আগের নিয়মেই হবে বলেও জানানো হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ভোটের সঙ্গে এই বিলের কোনও সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছে কেন্দ্র।

আরও পড়ুনঃ ভোটে অনুপস্থিতি কি শাস্তিযোগ্য? মামলার শুনানিতে বড় মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্টে
জনগণনা নিয়ে কংগ্রেসের দাবির জবাবে কেন্দ্র জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই জাতিগত জনগণনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বাড়ি বাড়ি তথ্য সংগ্রহ চলছে, এরপর পূর্ণাঙ্গ জনগণনা শুরু হবে এবং তার সঙ্গেই জাতিগত তথ্য সংগ্রহ করা হবে (Delimitation & Women Reservation Bill)।

















