বাংলাহান্ট ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ ঘিরে প্রথম থেকেই উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। তাই এবারের নির্বাচনে রাজ্যের নিরাপত্তার বিষয়টিও নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) কাছে বেশ যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের ব্যাপারও ছিল। অতীত অভিজ্ঞতায় ভোটের দিন তুমুল সংঘর্ষ,বোমাবাজি অথবা গুলি চলা এসব কিছুর ছবি যেন প্রায় স্বাভাবিক হয়ে উঠেছিল। তবে এাবারের চিত্রটা যেন একেবারেই অন্যরকম। ভোটের দিন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই ভোটগ্রহণ পর্ব চলছে। কোথাও কোনও সেরকম বড়ধরনের কোনও অশান্তির খবর খুব একটা মেলেনি। এরকম অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ভোটের নজির অনেকের কাছেই বিরল বলে মনে হয়েছে।
বাংলায় শান্তিপূর্ণ ভোটে কমিশনের (Election Commission of India) তৎপরতায় খুশি শাসক-বিরোধীরা:
এই পরিস্থিতি তৈরি করতে নির্বাচন কমিশন আগেভাগেই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছিল। প্রায় দেড় মাস আগে থেকেই গোটা রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন, লাগাতার নাকা চেকিং এবং নজরদারির ফলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন, লাগাতার নাকা চেকিং এবং নজরদারির ফলে কার্যত রাজ্যকে দুর্গে পরিণত করা হয়েছিল। সাধারণ মানুষের একাংশ শুরুতে এই কড়াকড়িতে বিরক্ত হলেও ভোটের দিন তার সুফল মিলেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
আরও পড়ুন: ৮৪ হাজার টাকার সুবিধা পেতে চান? মহিলারা কোন স্কিমে আবেদন করতে পারবেন জানেন
ভোটের প্রথমার্ধ পেরোতেই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার প্রশংসায় মুখর হয়ে ওঠে রাজনৈতিক মহল। দিলীপ ঘোষ এবং শুভেন্দু অধিকারী, দুই বিজেপি নেতা নিজেদের কেন্দ্রে ভোট দিয়ে বুথ পরিদর্শনে বেরিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। তাঁদের মতে, ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিচ্ছেন এবং পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। অযথা অস্থিরতা তৈরি না করে প্রয়োজন হলে তবেই মাঠে নামার কথাও জানান তাঁরা।
অন্যদিকে, বহরমপুরে নিজের ভোট দেওয়ার পর কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, এবারের ভোটে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফলে বুথ দখল বা ছাপ্পা ভোটের আশঙ্কা অনেকটাই কমেছে। যদিও দূর থেকে ভয় দেখানোর কিছু অভিযোগ রয়েছে, তবুও ভোটকেন্দ্রের ভিতরে জোর করে ভোটদানের মতো ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

আরও পড়ুন: ‘শান্তিপূর্ণ ভোট’-এ খুশি তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মন! নির্বাচন কমিশনকে জানালেন ধন্যবাদ
রাজগঞ্জে তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মন প্রথমবার প্রার্থী হিসেবে নিজের বুথে ভোট দেন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশের জন্য নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) ও প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান। তাঁর কথায়, সকলের সহযোগিতাতেই এই সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও শান্তিপূর্ণ ভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রায় সব দলই সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

















